বরিশালে ঈদের আগ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

দ্বারা hello@anbnews24.com

১১ মে সোমবার ২০২০ খ্রীঃ

বরিশালে ঈদের আগ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

বরিশালের ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। ঈদের আগ পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার বরিশালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে নগরীর সড়কগুলোতে যানবহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। রিকশা ও থ্রিহুইলার যানবাহন এতটাই বেড়ে গেছে যে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে মাঝে মাঝে যানজটও দেখা গেছে। চলমান করোনা সংকটের মধ্যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নিষেধাজ্ঞা গতকাল রোববার থেকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। আসন্ন ঈদ উৎসব উপলক্ষে

জনগণের কেনাকাটার সুবিধার জন্য সরকারিভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঈদের কেনাকাটায় বিপনীবিতান প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক সমাগমে করোনা সংক্রামণের ঝুঁকি থাকায় দোকান খোলা নিয়ে সারাদেশের মতো বরিশালের ব্যবসায়ীরাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। বিশেষ করে পোশাক বিক্রির প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজার, হেমায়েতউদ্দিন রোড ও হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের দোকান খোলা নিয়ে সব ব্যবসায়ীরা একমত হতে পারেননি। ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা সুস্পষ্টভাবে দোকান খোলা রাখার ঘোষণা না দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থবিধি মেনে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে বেচাকেনা করতে পারবেন।’ তবে বাস্তবতা হচ্ছে এসব এলাকায় সরু সড়কের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত চকবাজার, হাটখোলা, লাইন রোড ও হেমায়েত উদ্দিন সড়কের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ওই সভায় ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরিশালের চকবাজার-কাঠপট্টি-লাইনরোড-পদ্মাবতী ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে তারা গতকাল রোববার থেকে দোকান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সিটি মেয়রের অনুরোধে বরিশালের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যবসার চেয়ে জীবনকেই বেছে নিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর পোশাক বিক্রির মোকামগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান হাজি মোহাম্মদ মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটের প্রধান ফটক আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে সদর রোড নতুন বাজার, বাংলাবাজারসহ কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়াও আরও অনেক রকমারী দোকান খোলা রাখা হয়েছে। সদর রোডে বই-পুস্তক বিক্রির দোকান দীর্ঘদিন পর খোলা হয়। খোলা রাখা হয়েছে মোবাইল সেট বিক্রি এবং কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রির কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে বন্ধ রয়েছে ইলেকট্রনিঙ্সহ বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের বরিশালের শো-রুমগুলো।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles