আমার দেখা মতিয়া চৌধুরীর রাজনীতি ও নালিতাবাড়ীর উন্নয়ন

দ্বারা hello@anbnews24.com
আমার দেখা মতিয়া চৌধুরীর রাজনীতি ও নালিতাবাড়ীর উন্নয়ন

মতিয়া চৌধুরী বাংলার অগ্নিকন্যা একটি নাম । শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ৮০ দশকের শেষ দিকে তার আগমন ।এ সময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে | ক্ষেত মুজুর সমিতি , আওয়ামী লীগের ও মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অতিথি হিসেবে জনগনের সাথে প্রত্যক্ষ পরিচিতি লাভ করেন । তিনি আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকে বেগবান করে তুলেন ।
৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এর মধ্য দিয়ে এরশাদ শাসনের বিলুপ্তির পর নকলা-নালিতাবাড়ী (সংসদীয় আসন ১৪৭, শেরপুর -২) নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় নির্বাচনে মনোনীত হন । তিনি মনোনীত হলে আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান পদত্যাগ করেন । এ সময় বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান জাহেদ আলী চৌধুরী । মতিয়া চৌধুরী নকলার বধূ এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি,এই পরিচিতি তার নির্বাচনী মাঠে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজকরে । জাহেদআলী চৌধুরী কে মানুষ ততটা না জানলেও নকলা উপজেলা চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরীর ভাই হিসেবে পরিচিতি হয়ে উঠে । ৯১ এর নির্বাচনে শেরপুর -২ আসনে — আওয়ামী লীগ থেকে মতিয়া চৌধুরী বিএনপি থেকে জাহেদ আলী চৌধুরী , জাতীয় পার্টি – (শূন্য) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-(জাসদ) থেকে এডভোকেট নূরমোহাম্মদ , জামায়াত থেকে হাজী আব্দুর রহমান , স্বতন্ত্র থেকে সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুস সালাম(জাতীয় পার্টি নেতা), তিনি জিয়া সরকারের উপ-স্বররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন । পদত্যাগী আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে অবর্তীন হন ।
গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত হন । ৭৯ থেকে ৯০ পর্যন্ত্র দুই সামরিক সরকারের ক্ষমতাধর অধ্যাপক সালাম হয় তৃতীয় , বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরী হয় দিত্বীয় । সরকার গঠন করেন বিএনপি , বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী । পাল্টে যায় নকলা-নালিতাবাড়ীর রাজনৈতিক দৃশ্যপট । বিএনপি সরকারে থাকায় জাহেদ আলী চৌধুরীর প্রভাব থেকে যায় । অপর দিকে বিরোধী দলীয় সাংসদ হিসেবে,জনপ্রতিনিধি হিসেবে মতিয়া চৌধুরীর গুরুত্ব হয়ে উঠে অপরিসীম । মতিয়া চৌধুরী নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে নকলা- নালিতাবাড়ী মানুষের জন্য হয়ে উঠেন সুখ-দু:খের কান্ডারী । কৃষকদের সার সংকটে মতিয়া চৌধুরী সারারাত জেগে থেকে যমুনা সারকারখানা থেকে নিজে ট্রাকে চেপে বসে সার তুলে দেন কৃষকের হাতে । বিরোধীয় দলীয় সাংসদ হিসেবে এলাকার উন্নয়নের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেন ।
৯৬ এ বিএনপি সরকারের প্রহসনের নির্বাচন আওয়ামী লীগ তথা বেগম মতিয়া চৌধুরী অংশ গ্রহন না করলেও ১৫ ফ্রেবুয়ারী বঙ্গবন্ধুর আত্ম স্বীকৃতি খুনী কর্নেল ফারুকের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে একটি মাত্র কেন্দ্র গড়কান্দা প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে জাহেদ আলী চৌধুরীকে এম পি হেসেবে দেখানো হয় । এই সংসদ ১২ দিনের বেশী স্থায়ীত্ব লাভ করেনি । আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়া অবৈধ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন । পরবর্তী নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী আবারও নির্বাচিত হন । আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠন করেন । মতিয়া চৌধুরী ৫ টি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বভার কাধে নিয়ে নালিতাবাড়ীতে আগমন করেন । মতিয়া চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনসমুদ্র তৈরী হয় । মন্ত্রী হয়ে নালিতাবাড়ীতে তার আগমনী মূহুর্তে বার্তা পান গড়কান্দায় ভোগাই নদী ভাঙ্গনের । দলীয় নেতা-কর্মী সহ দেখতে যান । তিনি জানতে পারেন নদী ভাঙনের ফলে নালিতাবাড়ীর কৃষক কিভাবে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয় , কিভাবে প্রতিবছর তারাগঞ্জ শহর নদীভাঙনের কবলে পড়ে ।তিনি প্রথমেই নদী শাসনে হাত দেন । তিনি ভোগাই নদীর ভাঙন রোধে নদীর তীরে শহর এলাকায় বক্স দিয়ে বেড়িবাধঁ করেন । তিনি মানুষের প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করেন । একের পর এক উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখেন । আওয়ামী লীগ সরকারী দলের সুবাধে দলীয় কোন্দল দানা বাঁধে। দলীয় কোন্দলের জের ধরে খুন হয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক । জোড়া খুনের মত বিষয় মোকাবেলা করতে হয় মতিয়া চৌধুরীকে । তবুও তার উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে থাকেনি । নির্মাণ করেন মহিলা কলেজ , নির্মাণ করেন রাবার ড্যাম কাম ব্রীজ ।আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় গিয়ে দুই সামরিক শাসকের রেখে যাওয়া ঝঞ্ঝাল পরিস্কার করা ও উন্নয়ন করার অনুকূল পরিবেশ তৈরী না হতেই নানা কারনে (বিশেষ করে সাধারন মানুষের ভাবনার ফসল) সরকার বদল হয়ে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় চলে আসে । মতিয়া চৌধুরী সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন । বেগম মতিয়া চৌধুরীর পরাজয় মানে এই অঞ্চলের মানুষের পরাজয় , উন্নয়নের পরাজয় সাধারন মানুষ হারে হারে টের পেয়েছে । সরকার বদলের মজাও নিয়েছে সামরিক অপারেশনের মধ্যদিয়ে । নালিতাবাড়ীর নিম্নাঞ্চলের মানুষ ভোগাই নদীর ভাঙ্গনে ফসল ঘরে তুলতে পারল না ।নকলা নালিতবাড়ীর সড়ক উন্নয়নের নামে পটাশ সারের বদল বোরো ক্ষেতে পেল ইটের গুড়ো । মতিয়া চৌধুরী ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন । নকলা নালিতাবাড়ী তার কাছে পেল — সীমান্ত সড়ক , নাঁকুগাও ভোগাই ব্রীজ ,বুরুঙ্গা ব্রীজ , নাঁকুগাও পুর্নাঙ্গ স্থল বন্দর । উপজেলার শতশত মাইল পাকাকরন , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন । মতিয়া চৌধুরী একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন । শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনায় দিলেন প্রনোদনা । ওয়ান টেন ,ওয়ান টুয়েন্টি , আলো ,বস্ত্র সরকারী সহয়তা বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা , ইত্যাদি নিজ হাতে বিতরন করেন ।
সর্বোপরি মতিয়া চৌধুরী অতীতেও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে রাজনীতি করেছেন । নকলা —নালিতাবাড়ী রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে উন্নয়নের রাজনীতি কে বাধাগ্রস্থ কেউ করতে পারে নাই ।

লেখক

লাল মোঃ শাহ্জাহান কিবরিয়া
সম্পাদক
এএনবি নিউজ ২৪.কম

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles