কে হচ্ছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র! মতিয়া চৌধুরী না অন্য কেউ ?

দ্বারা hello@anbnews24.com
কে হচ্ছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র! মতিয়া চৌধুরী না অন্য কেউ

এএনবি  নিউজ ডেস্ক রি র্পো টঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে এ জোটের নেতৃত্বে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুফল ঘরে তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলটি।

জোট শরিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে রাজনীতির মাঠে প্রতিহত করেছেন বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী শিবিরের আন্দোলন। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি মোকাবিলায় এখনো ঐক্যবদ্ধ তারা। দীর্ঘদিন জোটের নেতৃত্বে থাকা সদ্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের পর কে হচ্ছে জোটের প্রধান সমন্বয়ক! এ নিয় সরগরম জোট রাজনীতি।

১৪ দলীয় সূত্র, ২০০৪ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ১৪-দলীয় জোট। সে সময় থেকেই তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে জোটের শরিকরা। দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এই জোটের নেতৃত্বের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পাড়ি দিয়ে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরষ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়েদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকার।

কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বেড়েছে তাদের ১৪ দলীয় জোট শরিক দলগুলোর।

বিশেষ করে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দেয়া, সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিকদের কাউকেই না রাখা, সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের প্রস্তাব এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না দেয়া ইত্যাদি।

যা নিয়ে তৃতীয় মেয়েদের সরকার গঠনের প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন শরিক দলের প্রভাবশালী নেতারা। শরিক দলের পক্ষে থেকে দাবি করা হচ্ছে, মাঠের আন্দোলন, সংগ্রাম, নির্বাচন ও সরকারের গঠনের জন্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে চুক্তি ছিলো আওয়ামী লীগের। কিন্তু বর্তমানে আগের অবস্থানে নেই আওয়ামী লীগ।

তারা বর্তমানে একলাচলা নীতিতে রয়েছে বলে মনে করছে তারা। ফলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে জোট নেতাদের কিছু বক্তব্য জোটের ঐক্যে ফাটলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও তাৎক্ষণিক সেই বিষয়গুলোকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তাই নাসিমের অবর্তমানে কতটা অটুট থাকবে জোটের রাজনীতি। তা ভাবিয়ে তুলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের।

যদিও দলটির পক্ষে থেকে দাবি করা হচ্ছে— সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগের সাথে জোট শরিকদের কিছু মান-অভিমান তৈরি হয়েছে। কিন্তু ১৪ দল অটুট আছে এবং অটুট থাকবে। জোট নেতৃত্বে আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি মোকাবিলা করবে সরকার।

তথ্যমতে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারি থেকেই আওয়ামী লীগের হয়ে অংশ নিতেন সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। নিজ দল আওয়ামী লীগের জন্য যতটুকু পরিশ্রম করেছেন তিনি, ঠিক ততটুকুই রাজনীতির মাঠে সফল হয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র হিসাবে।

বিশেষ করে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকারের যেকোনো নির্বাচনে জোট নেতাদের ঐক্যবন্ধ রাখা, ভোটের মাঠে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন প্রতিহত করা, ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি মোকাবিলা বিরুদ্ধে অনড় থাকা ইত্যাদি।

পাশাপাশি জোট নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানও দিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়াও বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় না থাকায় ক্ষুব্ধ জোট শরিকরা।

মোহাম্মদ নাসিমের একক নেতৃত্বেই শরিক দলগুলোর মাঝে চাওয়া-পাওয়ার আক্ষেপ ও এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন তারা।

কিন্তু গত শনিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন মোহাম্মদ নাসিম। তাই জোটের নেতৃত্বে কাকে দায়িত্ব দিবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে জোটের এই শীর্ষ পদ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। কাকে দেয়া হচ্ছে দায়িত্ব! যাকে দেয়া হবে তিনি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন!

আ.লীগের সূত্রে মতে, জোটের রাজনীতিতে চাওয়া-পাওয়ার নানা হিসাব নিকাশ থাকলেও দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বার্থে ১৪ দলীয় জোটের বন্ধন অটুট রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জোট শরিক দলের নেতারা। এজন্য নতুন নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেই কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে দায়িত্ব দিতে চান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পেতে পারেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। এছাড়া বেগম মতিয়া চৌধুরী জোট নেতাদের থেকেও অনেক সিনিয়র। তার পক্ষে জোট নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

ফলে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পদে রাখা হতে পারে তাকে। একই পদের আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

সিনিয়র নেতা হিসাবে তাকেও এ পদে রাখতে পারেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। শেষ পর্যন্ত মতিয়া কিংবা তোফায়েল আহমেদকে এ পদে রাখা না হলে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের আরও বেশকজন নেতা।

এদের মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। মূলত গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মূলদল আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তার এমন কার্যক্রমে প্রসংশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফলে তাকেও এই পদে দেখা যেতে পারে। একই পদে আলোচনায় রয়েছেন আরেক প্রেসিডিয়াম সমস্য আবদুর রহমান। তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিভিন্ন সময় নির্যাতনের মধ্যদিয়ে ছাত্রলীগ থেকে গড়ে ওঠা আবদুর রহমান কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাচ্ছেন ? নানা প্রশ্নের মধ্যেও  মতিয়া চৌধুরী হতেপারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে । 

 

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles