বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন মেস মালিক: শিক্ষার্থীর রুমে তালা!

দ্বারা hello@anbnews24.com
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন মেস মালিক: শিক্ষার্থীর রুমে তালা!

জাককানইবি প্রতিনিধিঃ  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারনে মেস ছাড়তে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাধার মুখে পড়ে । তাৎক্ষণিক ভাড়া দিতে না পারায় মেসে প্রবেশ করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ত্রিশালের ক্ষণিকা ছাত্রাবাসের মালিক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

মজনু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনিশ্চয়তায় মেস ছাড়তে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার বগুড়া থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসেন ।মেস মালিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মো. সাইফুল ইসলামকে ফোন দিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে শিক্ষার্থী মেস ছাড়ার কথা বললে শিক্ষক বলেন পুরো টাকা পরিশোধ করে জিনিস নিয়ে যেতে হবে ।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন,স্থানীয় প্রশাসন ও মেস মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ ভাড়া মওকুফ এর কথা বললে তিনি বলেন এটা কোনভাবে সম্ভব নয়। মেস মালিক ওই শিক্ষককে  না জানিয়ে রাতে কেয়ারটেকার শিক্ষার্থী মজনুকে থাকতে দেয়।  পরবর্তীতে শিক্ষার্থী পরদিন ২৬ জুন বিকাশে টাকা উত্তোলন করতে গেলে মেস মালিক সেই তালা পরিবর্তন করে ফেলে।কেয়ার টেকার আব্দুল আজিজ ওই শিক্ষার্থীকে জানান পুরো ভাড়া না দিলে কোনভাবেই যেতে দিতে না করেছে স্যার।

   শিক্ষার্থী মজনু জানায় , করোনা চলাকালীন চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে মেসে ঢুকতে না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মেসের কেয়ারটেকারকে ।কেযারটেকার বাসার মালিকের নির্দেশ মতে মেসে ঢুকতে দেয়নি । এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে মেসের কেয়ারটেকার আব্দুল আজিজ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান এর মধ্যস্ততায় শিক্ষার্থী মজনু ৬৭ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করে মেস ছেড়ে দেয়।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে ফোনে ফোকলোর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলামের নিকট গণমাধ্যম কর্মী এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  এ বিষয়  নিয়ে    কথা বলতে পারবেন  না বলে জানান ।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন — আমি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে  নোটিশ মোতাবেক ৬৭ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করে মেছ ছেড়ে যেতে বলেছি ।

 এমন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম জানান , এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা লজ্জ্বার ও নিন্দনীয়। অফিসিয়ালি কেউ অভিযোগ করলে আমাদের সংগঠন এর ফোরামে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো।তিনি আরও বলেন  শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক হওয়া উচিত।

ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাকার মুস্তাফা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষণিকা মেস সংক্রান্ত যে সংবাদটি দেখেছি, তা যদি সত্য হয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি মনে করি, এই মহামারির সময়ে আমাদের আরও বেশি সংযত, ধৈর্য্যশীল ও মানবিক আচরণ করা উচিত।

এর পূর্বেও ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষনিকা ছাত্রাবাসে থাকাকালীন সময়ে চাপ প্রয়োগ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মেস ছাড়তে বাধ্য করেন ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম ।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles