ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

দ্বারা hello@anbnews24.com
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ নেয়ার লিখিত  অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে

লিখিত অভিযোগে  বলা হয়, নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া পদে জনবল চেয়ে গত ১৫ মার্চ একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রতিবেশি স্থানীয় দরিদ্র সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন আয়া পদে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম বেলায়েত হোসেন খসরু এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করেন।  সভাপতি বেলায়েত হোসেন খসরু চাকুরী প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে সাবিনার কাছে ৬ লাখ টাকা চায় এবং প্রধান শিক্ষকের নিকট টাকা দিতে বলেন। সেই মতে  সাবিনা তার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ৫০ শতাংশ  জমি তড়িঘড়ি করে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে ও বাকী টাকা সুদে দেনা করেন। পরে প্রথম দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য শওকত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সভাপতির কথামতো প্রধান শিক্ষকের হাতে তোলে দেন।এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও দেড় লাখ টাকা দেন সাবিনা। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলবশত বয়সের গড়মিল থাকায় তা সংশোধনের জন্য সভাপতি আরও দশ হাজার টাকা খরচ নেন । পরে ১৫ জুন নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হলে ৭ জন  প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষার পত্র পাঠানো হয়। ৭ জনের মধ্যে দরদামে  জনৈক প্রার্থী ৮ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সাবিনাকে বাদ দেওয়ার জন্য কৌশলগত ভাবে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয় । পরবর্তীতে শর্ত অনুযায়ী বয়স বেশি হয়েছে মর্মে সাবিনার চাকুরী হবে না জানিয়ে তাকে ব্যতীত অপর ৬ প্রার্থীর নামে পুনরায় ২৯ জুন নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে পত্র পাঠান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাবিনা গত ২৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে  লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে  ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য শওকত হোসেন জানান, আমার উপস্থিতিতে সাবিনা প্রথম দফার সাড়ে চার লাখ টাকা  প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফকে  দেন।ম্যানেজিং কমিটির অপর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, আমি লোকমুখে সাবিনার ৬ লাখ টাকা লেনদেনের কথা শোনেছি।ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, লোকমুখে টাকা লেনদেনের কথা শুনেছি।

এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান  পরিচ্ছন্ন নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যে প্রার্থী সবদিক মিলিয়ে বেশি নাম্বার পাবে আমরা তাকেই চূড়ান্ত করব।মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন খসরু মোবাইল ফোনে  টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে, তিনি অসুস্থ, তাই এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান ।

শিক্ষা অফিসার এ এন বি নিউজকে জানান – লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে ।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles