প্রতিটি মানুষকে ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী

দ্বারা hello@anbnews24.com
প্রতিটি মানুষকে ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী

এএনবি নিউজ অনলাইন ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। জতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না।প্রতিটি মানুষকে যেভাবে পারি ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো।

বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) সকালে কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি, পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা তহবিল করা আছে, সেখান থেকে যেকোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে। আর আমরা নিজেরাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমেও যাদের জমি আছে, ভিটা আছে, কিন্তু ঘর নাই তাদের ঘর করে দিচ্ছি।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার একটু বন্যার প্রকোপটা বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা হচ্ছে শ্রাবণ মাস, এরপর ভাদ্র মাসের দিকে আরো পানি আসবে। অর্থাৎ অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের আরো বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে, এটা মোকাবেলা করার।

কিন্তু বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত বা নদীভাঙনে যারা গৃহহারা হচ্ছেন তাদেরকেও আমরা ঘরবাড়ি করে তাদের জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দেব। সেটাও আমাদের লক্ষ্য রয়েছে। বাজেটে আমরা আলাদাভাবে টাকাই রেখে দিয়েছি যে গৃহহীন মানুষের ঘর করে দেওয়ার জন্য, যাতে একটি মানুষও গৃহহারা না থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্র সৈকতটা সারাবিশ্বের মধ্যে সব থেকে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। এতো সুন্দর এতো দীর্ঘ এবং যেখানে বালু আছে, বালুময় সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। এতো চমৎকার একটা জিনিস সেটা দেশের মানুষ এবং বিশ্বব্যাপী সবাই যেন উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্য নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিই। বিমানবন্দরটাকে এমনভাবে উন্নত করতে চাই, যেখানে হয়তো সারাবিশ্ব থেকে অনেকে আসতে পারবে, যত বড় বিশাল বিমান হোক নামতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গিয়ে দেখলাম জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি, ভিটামাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে আছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের পুনর্বাসন করব। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্প। এখানে নতুন শহরের মধ্যে মানুষ বসবাস করতে পারবে।

কক্সবাজারের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে যেমন আমাদের পর্যটন কেন্দ্রগুলো হবে ২ থেকে ৩টি, সেই সাথে সাথে মানুষের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও করে দেব।

আর খুরুশকূলে আলাদা একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠবে উল্লেখ করে ফ্ল্যাট পাওয়া পরিবারগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে আমি নিজে গিয়েছি,দেখেছি সেটা, এখন আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলে-মেয়েরাও বড় হবে, মানুষ হবে সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

আজকে যেই ঘরবাড়িগুলো করে দেয়া হলো, মনে রাখবেন এটা আপনাদের নিজেরই। সেভাবে যত্ন নিয়ে ব্যবহার করবেন। সুন্দরভাবে যাতে থাকে সেদিকে দেখবেন।

আর এখানে নদীর কূল ধরে সবুজ বেষ্টনি করে দেয়া হবে। কোনো রকম ঝড় জলোচ্ছাসে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আপনারাও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করবেন। পুকুর কেটে দেয়া হয়েছে। আর তাছাড়া জীবন-জীবিকার সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দেব। সেভাবেই সবাইকে পুনর্বাসন করতে চাই।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles