রংপুরের পীরগঞ্জে রাজা ভীম চন্দ্রের প্রাসাদ বিলীনের পথে: ৩০ একর জমি বেদখলে ,সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নেয়ার দাবী

দ্বারা hello@anbnews24.com
রংপুরের পীরগঞ্জে রাজা ভীম চন্দ্রের প্রাসাদ বিলীনের পথে: ৩০ একর জমি বেদখলে ,সংরক্ষনে সরকারের উদ্যোগ নেয়ার দাবী

বখতিয়ার রহমান পীরগঞ্জ (রংপুর):  রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্মৃতি বিজরিত ও প্রাচীন নিদর্শন সম্বলিত একটি স্থান রাজা ভীম চন্দ্রের প্রাসাদ । সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির অভাবে যেটির স্মৃতি চিহ্ন আজ বিলুপ্তির পথে । বেদখল হয়ে গেছে রাজপ্রাসাদ সহ প্রায় ৩০ একর জমি ।
প্রাপ্ত তথ্য ও সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভীমশহর মৌজায় এ রাজ প্রাসাদটির অবস্থান । কথিত আছে এক সময়ের প্রভাবশালী রাজা ছিলেন ভীম চন্দ্র । তিনি উক্ত মৌজায় বসবাসের মাধ্যমে বিশাল এলাকা শাসন করতেন । তার বসবাসের জন্য সেখানে প্রায় ৮ একর আয়তনের জমির উপর নির্মান করেন সুউচ্চ রাজ প্রাসাদ । চতুপার্শে বিশাল উচুঁ প্রাচীর বেষ্টিত নিরাপদ প্রাসাদে অবস্থান করতেন রাজা ভীম চন্দ্র ও তার ছোট ভাই ভ‚বন চন্দ্র সহ পরিবারের সদস্যরা । যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমনের কোন সামর্থ ছিলনা । প্রাসাদ সংলগ্ন পুর্ব পার্শে সুরক্ষিত ও উচু স্থানে ছিল তাদের হাওয়া খানা । সেখানে তারা উপভোগ করতেন নির্মল বায়ু । এ প্রাসাদটি এলাকাবাসীর কাছে এখন বুরুজ নামে পরিচিত । এ রাজ প্রাসাদ থেকে পুর্বে প্রায় ৫’ শ মিটার দুরে ছিল উচুঁ পাড় বেষ্ঠিত এক বিশাল আয়তনের পুকুর । প্রায় ১৬ একর আয়তনের এ পুকুরে রাজা ভীম চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা হাতির পিঠে চড়ে এ পুকুরে আসতেন এবং গোসল করতেন । এখন সেই পুকুর ভুয়ার পুকুর নামে পরিচিত । সেই পুকুর ও পাড়ের অস্তিত্ব আজও বিদ্যমান থাকলেও পুকুরটি অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে । রাজা ভীম চন্দ্রের অপর ভাই ভ‚বন চন্দ্রের গোসলের জন্যও ভুয়ার পুকুর থেকে অনতিদুরে ছিল পৃথক একটি পুকুর । এখন সেই পুকুর ছোট পকরা নামে পরিচিত ।
কথিত আছে প্রায় ৬ একর আয়তনের এ পুকুরটিতেও ভ‚বন চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্য পৃথক পৃথক হাতির পিঠে চষে পুকুরটিতে গোসল করতে আসতেন । সেই পুকুর প্রায় ভরাট হয়ে গেলেও নাম মাত্র পুকুরটির অস্তিত্ব আজও বিদ্যমান রয়েছে । বর্তমানে পুকুরের জমি , আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে । ইতিহাস ঐতিহ্যের কোন নির্দশন নেই সরকারী-বেসরকারী ভাবে কেউ সংরক্ষন করেনি ।
এ প্রাসাদের পরিস্থিতি স¤পর্কে বলতে গিয়ে ভীম শহরের রমজান আলী , শাহাব উদ্দিন সহ অনেকেই প্রতিক্রিয়ায় জানান, রাজা ভীম চন্দ্র ও ভুবন চন্দ্রের রাজপ্রাসাদটি মুল সমতল ভ‚মি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উচু ছিল । দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার লোকজন প্রাসাদের ইট ও সড়কী নিয়ে যাবার কারনে এর উচ্চতা ১০ ফুট হ্রাস পেয়েছে । অপর দিকে রাজাদের জন্য ভুয়ার পুকুর ও ছোট পকড়া নামে যে দুটি বিশাল আয়তনের পুকুর ছিল সে গুলোও অনেকটাই ভরাট হওয়ার কারনে শুধু মাত্র পুকুর গুলির অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে ।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, রাজা ভীম চন্দ্র ও ভুবন চন্দ্রের রাজ প্রাসাদ সহ তাদের গোসলের পুকুর গুলো সহ ৩০ একরের মত জমি রয়েছে । কিন্তু সে জমি গুলো এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি তাদের দখলে নিয়ে সে গুলোতে চাষাবাদ ও মাছ চাষ করছেন । তারা কি ভাবে জমি গুলো ভোগ দখলের সুযোগ পেল তা এলাকার লোকজনের বোধগম্য নয় ।
এলাকাবাসী মনে করেন রাজা ভীম চন্দ্র ও ভ‚বন চন্দ্রের রাজপ্রাসাদ ও তাদের জমি গুলোর ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের খতিয়ে দেখা উচিত ।
এতে বেদখলকৃত জমি গুলো উদ্ধারের সম্ভাবনার পাশাপাশি রাজপ্রাসাদ ও পুকুর ২টি সংরক্ষনও সম্ভব । সে সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে এলাকাটির পরিচিতিরও বিস্তার ঘটবে

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles