পীরগঞ্জে আমন ধানের ভরা মৌশুমে ইজিপিপি কর্মসুচী ধান কর্তন নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

দ্বারা hello@anbnews24.com
পীরগঞ্জে আমন ধানের ভরা মৌশুমে ইজিপিপি কর্মসুচী ধান কর্তন নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

বখতিয়ার রহমান, রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের পীরগঞ্জে আমন ধান কর্তনের পুরো মৌশুমে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচী (ইজিপিপি) অব্যহত থাকায় তীব্র  ‍মুজুর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে । ফলে যথা সময়ে আমন ধান ঘরে উঠানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকেরা । ধান ঘরে তুলতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও কৃষকেরা যথা সময়ে পুরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এ নিয়ে তারা সন্দিহান ।

 উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মরশুমে পীরগঞ্জে ২৫ হাজার ২শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হলেও বন্যায় ১ হাজার ৯ শ’ ৫০ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। আর ধান কর্তন করে ঘরে উঠানোর এখন উপযুক্ত সময়। অপর দিকে পীরগঞ্জে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ১৪ নভেম্বর শনিবার থেকে পীরগঞ্জে (ইজিপিপি) কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা ৪০ কর্ম দিবস অব্যহত থাকবে । আর এতে পীরগঞ্জের ১৫ টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৮ শ’ ৯ জন পুরুষ ও মহিলা মজুর এ কর্মসুচীতে অন্তর্ভুত করা হয়েছে । এদিকে গত বুধবার উপজেলার বড়দরগাহ, ভেন্ডাবাড়ী, পীরগঞ্জ, কুমেদপুর ও চৈত্রকোল ইউনিয়নের সরেজমিন আমন ক্ষেত পরিদর্শন দেখা গেছে ৮০ শতাংশ আমন ধান কর্তনের উপযোগী হয়েছে । অথচ কৃষকেরা ধান কর্তন করতে পারছেন না । অনেকে সীমিত সংখ্যক মজুর দিয়ে, আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কর্তন করছেন । আবার অনেক কৃষক মজুরও পাচ্ছেন না এবং পরিবারের সদস্যদেরও নিয়েও ধান কর্তন সম্ভব হচ্ছে না । কারন তারা এ কাজে অভ্যস্থ নয় । তারা শুধু ধান ক্ষেত প্রত্যক্ষ করে শান্তনা পাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং প্রহর গুনছেন কবে ধান ঘরে তুলবেন । উপজেলার রসুলপুরের সালাম, জয়নাল, মরারপাড়ার নাজমুল, চাপাবাড়ীর মশফিকুর সহ মিলকি, হরিপুর, মির্জাপুর, ভীমশহর, ভুজুবাড়ী,ঝরারঘাট সহ বেশ ক’টি গ্রামের সাধারণ কৃষক আমন ধান কর্তন নিয়ে জানান তাদের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার কথা । তাদের মতে এ সময়ে এমনিতেই মজুর সংকট তার পরেও অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচী মজুর সংকট কে আরও প্রকট করেছে । অনেক কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারছে না মজুরের অভাবে। যে সকল কষক কষ্ট করে মজুর সংগ্রহ করছেন তাদেরকে ৫০ শতাংশ জমির ধান কর্তনের জন্য ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে । যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার টাকা বেশী । তাই কৃষকেরা মনে করছেন এ সময় এ কর্মসুচী স্থগীত থাকলে মজুর সংকট কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে এবং কৃষকদের ধান কর্তনে সহায়ক হবে।
সরকারী নিয়মানুযায়ী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অতি দরিদ্রদের জন্য এ কর্মসংস্থান কর্মসুচী বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত ধাকলেও অক্টোবরে শুরু না করে আমন ধান কর্তনের ভরা মরশুমে কাজ শুরু করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ কর্মসুচীর কারনে একটু মজুর সংকট তো হবেই । কারন এ সময় এ কর্মসুচী না থাকলে কর্মসুচীতে অন্তর্ভুক্ত ব্যাক্তিরা আমন ধান কর্তনে শ্রম দিত । একই প্রশ্নের ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সে সময় মাটি পাওয়া যেত না । তাই তখন কাজ শুরু করা হয়নি । পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ কর্মসুচীর কারনে আমন ধান কর্তনের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়বে না । যে ভাবেই হোক কৃষকেরা ধান কর্তন করে ঘরে তুলবেন ।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles