কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবস

দ্বারা hello@anbnews24.com
কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবস

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেঃ ১৪ দল

এএনবিডেস্ক রিপোর্ট:জাতীয়বীর,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবস বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে পালন করেছে জাসদ।১৬ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪ টায়রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেনএবং সকাল ৮টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পণকরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ।

জাসদ  সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলির সদস্য জনাব আমীর হোসেন আমু এমপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ন্যাপের (মোঃ) সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের অনুজ কাজী মাসুদ আহমেদ, ভ্রাতসপুত্রী কাজী সালমা সুলতানা প্রমূখ।
জনাব আমীর হোসেন আমু এমপি তার ভাষণে কাজী আরেফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ৬০ দশকে ৬ দফাসহ স্বাধীনতার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে ঐতিহাসিক সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল সেই সংগ্রামে ঢাকা শহরের ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কাজী আরেফ ঐতিহাসিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, আজ যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি তার ভাষণে বলেন, কাজী আরেফ আহমেদ ৬০ দশকে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ঠিক তেমনি সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধী বিচার আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতিবাজ-লুটেরা গোষ্ঠীর যে উত্থান ঘটেছে সে বিষয়ে ১৪ দলের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নেয়া এখন সময়ের দাবি।

জনাব দিলীপ বড়ুয়া তার ভাষণে কাজী আরেফ আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল সেই লক্ষ্য এবং চেতনাকে ধারণ করে ১৪ দলকে সক্রিয় করতে হবে।

সভাপতির ভাষণে জনাব হাসানুল হক ইনু এমপি জাতীয় বীর ও জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কাজী আরেফ আহমেদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ৬০ দশকে দ্বিজাতি তত্ত্বের বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-মানবিক ও শোষণ মুক্তির চেতনা নিয়ে তীব্র জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে উন্নীত করতে দিকনির্দেশক ভূমিকা পালন করেছিলেন। কাজী আরেফ আহমেদ এই সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করেই যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামে জাসদ আয়োজিত সন্ত্রাস বিরোধী এক জনসভায় বক্তৃতারত অবস্থায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী গুলি করে কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পর পর দুইবার নির্বাচিত দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এড. ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন এবং তফসের মণ্ডলকে হত্যা করে।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles