লঘুচাপ পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে, সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

দ্বারা hello@anbnews24.com
লঘুচাপ পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে, সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

এএনবি নিউজ আবহাওয়া বার্তা:আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (২৩ মে) জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর জের ধরে দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে নদীবন্দরের জন্য সতর্কতা নেই এবং কোনো সংকেতও দেখাতে হবে না।

আবহাওয়ার পূর্ভাবাসে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় (১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ) ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং বুধবার (২৬ মে) উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ইয়াশ’। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি ঝড়ের নাম নির্ধারণ করে থাকে। যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ এই সংস্থার আটটি দেশ করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ওমান। ‘ইয়াশ’ নামটি দিয়েছে ওমান। এর অর্থ ‘হতাশা’।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, রোববার বেলা ১২টার দিকে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়। বিকাল ৫টার দিকেও সেটি একই এলাকায় অবস্থান রয়েছে। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।

বিকাল ৫টায় নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫৫  কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

রুহুল কুদ্দুস বলেন, এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে উত্তর পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। বর্তমান গতিধারা অব্যাহত থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার নাগাদ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোকিমটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আগে দেশের সব বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েক দিন ধরে অহসনীয় গরমে অস্বস্তিকর অবস্থা জনজীবনে।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, রোববার খুলনায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সব বিভাগে টানা তাপপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাতে ঢাকা, চটগ্রাম বরিশাল খুলনাসহ অনেক জায়গায় বৃষ্টির আভাস আছে। তাপমাত্রা আর হয়ত বাড়বে না। মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে কমবে; বৃষ্টিও হবে অনেক জায়গায়।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, ঢাকা  ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles