নালিতাবাড়ী নন্নী ইউনিয়নে ভাতিজার নলকূপ দেখিয়ে প্রকল্প! বসত বাড়ির জমি দখলের অভিযোগ

দ্বারা hello@anbnews24.com
নালিতাবাড়ী নন্নী ইউনিয়নে ভাতিজার নলকূপ দেখিয়ে প্রকল্প! বসত বাড়ির জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:শেরপুরের নালিতাবাড়ী নন্নী ইউনিয়নের ছাইচাকুড়া গ্রামের আব্দুস সালামের  নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি নলকূপের পাকায় এলজিএসপি-২ প্রকল্পের নেইমপ্লেট বসিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ । 

অভিযোগে উল্লেখ করে নলকূপের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, আমি জীবীকা নির্বাহ করতে মানসিক ভারসাম্যহীন আমার একটি বোনকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যাই। এর মধ্যে আমি বাড়িতে এসে পানীয় জলের জন্য বাড়ীতে আনুমানিক ২০১৪ সালে একটি নলকূপ স্থাপন করে আবার ঢাকায় চলে যাই। এই ফাঁকে নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান রিটন ওই নলকূপের জায়গা পাকা করে ‘এলজিএসপি-২ অর্থবছর: ২০১৫-২০১৬, ২নং নন্নী ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে একটি নেইমপ্লেট বসিয়ে দেন। 

ওই নলকূপের মালিক আব্দুস সালামের এ অভিয়োগের প্রেক্ষিতে আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা সহ অন্যান্য গনমাধ্যমে  সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চেয়ারম্যান এক মতবিনিময় সভায় প্রকাশ করেন যে, তিনি তার ভাতিজার নিকট জমি ক্রয় করেছেন, তারভাতিজা কোন এক আদিবাসীকে বিয়ে করে এলাকায় থাকেননি।তার ভগ্নিপতির বাড়িতে এলজি এসপির প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।

 ্এছাড়া ঐ মতবিনিময় সভায় ছাইচাকুড়া গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বাবুলের বরাত দিয়ে মতবিনিময় সভার প্রেক্ষিতে  সংবাদে বলা হয়“আমাদের আগের পরিষদ কর্তৃক গৃহীত এলজিএসপি-২ প্রকল্প থেকে সালামের বাড়িতে ওই সময় বসবাসরত ব্যক্তির নামে সরকারী নলকূপ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজটি বাস্তবায়ন করে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। মূলত সালামের নামে কোন নলকূপই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কাজেই তিনি চেয়ারম্যান রিটনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন তা ভিত্তিহীন।

 

এ ব্যাপারে নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএমমাহবুবুর রহমান  রিটন আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন , এলজিএসপির কাজ গুলো ঠিকাদারদের মাধ্যমে করা হয়। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না। তখন আজাদ নামের একজন চেয়ারম্যান  ছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই আমি ক্ষমতা পেয়েছি। এটা আগের চেয়ারম্যানের আমলে বরাদ্দ হয়ে থাকতে পারে,  যা ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হযেছে। আজ থেকে ৫/৬ বছর আগের বিষয়টি আমার সঠিক মনে নেই।

।পরে তিনি এ বিষয় নিয়ে কয়েকজন  গনমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করে বলেন, চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রহমান তার ভাতিজার নিকট জমি ক্রয় করেছেন, তারভাতিজা কোন এক আদিবাসীকে বিয়েকরে এলাকায় থাকেন নি।তার ভগ্নিপতির বাড়িতে এলজি এসপির প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।চেয়ারম্যান ও ৫নং ওর্য়াডের সদস্যের বক্তব্য নিয়ে মতবিনিমিয় সভায় আব্দুস সালামের তথ্যভিত্তিক সংবাদকে সাফঅস্বীকার করে সংবাদ প্রকাশের পর  ৫ জুন শনিবার দুপুরে তার মুখোমুখী হলে সালাম বলেন, তার এক ভগ্নিপতি নুরন্ননবী নন্নীবাজারের হোটেলব্যবসায়ী, আর ৩ ভগ্নিপতি দূরে থাকেন। মানসিক ভারসম্যহীন বোন  থাকেন  বাড়িতে ।এই বাড়িতে তাদের নিজস্ব ব্যায়ে নির্মান করা নলকূপ।     চেয়ারম্যান কেন প্রকল্পের বলে দাবী করছেন ? তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না ।

হোটেল ব্যবসায়ী ভগ্নিপতি নুরূনবী বলেন, চেয়ারম্যান প্রকল্পের মাধ্যমে যে নলকূপটি দিয়েছেন সেটি কোথায়?

বর্তমানে যে নলকূপটি রয়েছে সেটি তো তার শ্যালক সালামের টাকায় কেনা এ ব্যাপারে নন্নী ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রিটনের মতবিনিময় সভায় বরাতদিয়ে প্রকাশিত বক্তব্য “কিছুদিন আগে আমাদের বংশের বয়োজেষ্ঠ্য ভাতিজা সালাম আমার কাছে সাবমার্সিবল পাম্প চেয়েছিলেন। একই বাড়িতে সরকারী বরাদ্দের নলকুপ আছে। তাই একাধিক সুবিধা প্রদান করলে বিতর্ক হবে বিধায় দেইনি। এজন্য ভাতিজা মন খারাপ করে আমার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়েছে। এ কথার বিপরিতে আব্দুস সালাম বলেন, আমার বাড়িই হোক আর আমার ভগ্নি পতির বাড়িই হোক চেয়ারম্যান তো প্রকল্পের নলকূপ দেয়নি ।ওটা আমার নিজের খরচে করা । আমি তার কাছে কোনদিন কোন কিছু চাইনি ।আমরা তারবিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছি । ঐলিখিত অভিযোগে নলকূপের কথা বলা ছিল , সাংবাদিকরা সেই সূত্রে জানতে চাইলে আমি সত্য কথা বলেছি । সে এখন আমার দাম্পত্য বিষয়ে নানা কথা বলছে। তিনি আমার ব্যক্তিগত বিষয় , পারিবারিক বিষয়ে বিষোধগার করছেন ।আমিতো বলি নাই আমার নামে দেওয়ার কথা, আমি বলেছি আমার নিজের দেওয়া নলকূপে সরকারী প্রকল্পের নেইম প্লেট কেন?

 আব্দুস সালাম ও তার ভগ্নিপতি নন্নী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী নুরননবী  জনান , চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ও তার অপর দুই ভাই তাদের পৈতিক ভিটায় কিছু জমি কিনে নিয়ে দু‘পার্শ্বে পুকুর করে কৌশলে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি পুকুরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে । এনিয়ে তাদের বিরোধ বিদ্যমান  এব্যোপারে নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান।  ।

     

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles