জাককানইবিতে ইন্টারনেট বিল বাবদ বিপুল অংকের অর্থ খরচ

দ্বারা hello@anbnews24.com

জাককানইবি প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ইন্টারনেট বিল বাবদ বিপুল অংকের অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে।  মহামারী করোনার  কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল  । অথচ ইন্টারনেট বিল বাবদ ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা  ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় দেখানো হয়েছে।

বিভিন্ন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ  বাবদ আরও অতিরিক্ত দুই লক্ষাধিক টাকা খরচ দেখানো হয়েছে ।বিডি রেন এবং অন্যটি স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘ত্রিশাল নেট’ দেখিয়ে খরচ দেখানো হয়েছে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্যতামূলকভাবে বিডি রেন এর সঙ্গে   বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কতৃক   চুক্তিবদ্ধ ।

ইউজিসি এই চুক্তি বাস্তবায়ন করে থাকে ৩টি ক্যাটাগরিতে।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘সি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ৪০০ এমবিপিএস-এর ইন্টারনেট সেবা পায়। এই ইন্টারনেট সেবার মাসিক খরচ ২ লাখ টাকা, তিন মাস অন্তর ইউজিসি এই  বিল পরিশোধ  করে থাকেন।প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্যতামূলকভাবে এই সেবা গ্রহণ করতে হয়।এই সেবা গ্রহণ না করলেও নিয়ম অনুযায়ী দিতে হয় প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা।

বিডি রেন প্রতিষ্ঠানটির সার্ভিস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবার সংকট সমাধানের জন্য স্থানীয় ইন্টারনেট বিতরণ প্রতিষ্ঠান ‘ত্রিশাল নেট’ থেকে বাড়তি ইন্টারনেট ক্রয় করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে গুনতে হচ্ছে প্রতি মাসে ৭৫ হাজার টাকা, যার পরিমাণ বছর শেষে দাঁড়ায় ৯ লক্ষ টাকা। এছাড়া  ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত  বিভিন্ন সময় এই খাতে বিভিন্ন ডিভাইস ক্রয় ও সংস্কার কাজে বছরে ব্যয় দেখানো হয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইন্টারনেট সেবার আওতাধীন রয়েছে প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর সহ ২৩টি একাডেমিক বিভাগ ।  পাশাপাশি দুটি আবাসিক হল, ৩টি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমিটরি এবং উপাচার্যের বাসভবন।বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকায় বন্ধ  ছিল আবাসিক হল, স্থগিত ছিল বিভিন্ন বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম।  স্বাভাবিক সময়ের মতো এই সময়েও চালু ছিল  ইন্টারনেট ক্রয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইসিটি সেলের সহযোগিতায় জানা যায়,  বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন সবোচ্চ গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছে। অপর একটি বিটভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়,  এই ইন্টারনেট সেবার মধ্যে কেবল ৩টি ডরমিটরি এবং উপাচার্যের বাসভবন সক্রিয় সেবা নিয়েছে । যার ডাটার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার জিবি গড়ে প্রতি মাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিভাগ, প্রশাসনিক অধিকাংশ দপ্তর বন্ধ থাকার এই সময়ে এত টাকার ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করাকে অন্যায় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলেছেন একাধিক শিক্ষক এবং কর্মকর্তা।

ইন্টারনেট ব্যবহার খাতে অর্থের ব্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এই নিয়ে আমাদের আলোচনা  হয়েছে। তাই এটি কীভাবে সমাধানে আনা যায় সেই লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া ইতিমধ্যে ইন্টারনেট খাতে ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।

আইসিটি সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. সেলিম আল মামুন গনমাধ্যমকে  জানান, ‘এই বন্ধ সময়েও একই খরচ হয়েছে কি না আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। এছাড়া কীভাবে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা যাবে সেটি নিয়েও কাজ করা হবে।’

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আল জাবির বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে বলেন, ‘আমি নিজে সপ্তাহে ১০ জিবি কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে এই খাতে সেই পরিমাণ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধের অধিকাংশ সময়জুড়ে বিভিন্ন বিভাগের  কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা নিজের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেছেন,। অনেকে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান করেছেন।  অনলাইনে ক্লাস গ্রহণের ক্ষেত্রেও আমার জানামতে অধিকাংশ শিক্ষক নিজ ডাটা ক্রয় করে ক্লাস নিয়েছেন।  এই সময়ে এত অর্থের ব্যয় এই খাতে দুঃখজনক।’

ইন্টারনেট  অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক ড. মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই নিয়ে কথা বলেছিলাম। আগের ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সেটি করেছি। যার মধ্যে বিডি রেন এর বিল আমাদের দিতে হয় না। এটি বাজেটের শুরুতেই ইউজিসি কেটে রেখে দেয় আমাদের এই খাতের মোট বরাদ্দ থেকে। আমরা কেবল স্থানীয়ভাবে যে ইন্টারনেট সেবা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করে সেটির বিল পরিশোধ করি।’

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, শুধুমাত্র ইন্টারনেট বিলই অতিরিক্ত ভাবলে ভুল হবে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্কারের কথা বলে এবং ডিভাইস ক্রয়ের কথা বলে প্রতি মাসের বিলের থেকেও বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles