৭১ এর স্মৃতি এখনো তাড়া করে নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের আফাজ উদ্দীনকে

দ্বারা hello@anbnews24.com
৭১ এর স্মৃতি এখনো তাড়া করে নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের আফাজ উদ্দীনকে
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও  পাইনি  সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা
শফিউল আলম সম্রাট:তহন আমার বয়স ৫ কি ৬ অইবো, যুদ্ধ আর যুদ্ধ,আমাগো বাড়িতে মুক্তিবাহিনী থাকতো খাইতো ।এইডা টের পাইয়া পাক বাহিনী আমার ভাই চাচারে ধইরা লইয়া আউলিয়ার খালে নিয়া গুলি কইরা মানুষ মারলো, কয়দিন পরে আমাগো বাড়ির সামনে সীল বোমা পড়লো ।এই সিলের গুলি আমার পায়ে লাইগা পঙ্গু হইলাম, এমন কথাই বলছিলেন,শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ১নংপোড়াগাও ইউনিযনের বুরুঙ্গা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত:অছিমদ্দীনের ছেলে আফাজ উদ্দীন(৬০)।স্ত্রী ছমেলা খাতুন(৪৫)ও তিন কন্যা আফরোজা খাতুন,আকলিমা খাতুন,আরমিনা খাতুনদের নিয়ে ছোট্ট টংদোকান করে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।নেই কোন আবাদি জমি,১৫ শতাংশ মাটির উপর বসত ভিটা ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরই তার বাসগৃহ।সংসারে বাড়তি আয় করার মত নেই কোন মানুষ। অন্য দিকে ছোট মেয়ে ছমেলা ৮ম শ্রেনীতে পড়াশোনা করছে । ঠিকমত পড়াশোনর খরচ দিতে হিম-শিম খেতে হয় আফাজ উদ্দীনকে ।
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পায়নি সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা। আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর সাথে কথাহলে তারা জানায়, ৮০বছরের বৃদ্ধা আফাজ উদ্দীনের বড় বোন জমিরন নেছা আমার এক ভাই, এক মাইয়া সংগ্রামে হারাইছি ।এহন আমার ভাই আফাজ পোলাপান লইয়া না খাইয়া খুব কষ্ট করতাছে ।আমাগো কেউ কিছু দেয় না ।গ্রামের আরেক বাসিন্দা আশরাফ আলী (৭০)জানান, যুদ্ধ শুরু হইলে আমি ভারতের আমপাতি চইলা যাই ।যুদ্ধ শেষ হইলে ফিইরা আইয়া দেহি আফাজ বোমার আঘাত পাইছে, চিকিৎসা করার মানুষ নাই, আমি কাঁন্ধে কইরা হালুয়াঘাট জয়রামকুড়া মিশনে নিছি,২ টাহা ভাড়া দিয়া ময়মনসিংহ নিছি কত খেদমত করছি। এহনও আফাজের পাউডা ভালা অই নাই ।সরকার একটা কিছু করলে আফাজের খুব উপকার অইতো ।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু বলেন, মুক্তিযোদ্ধের সময় অনেকে আহত এবং নিহত হয়েছে, এই ঘটনাটি অবশ্যই দু:খজনক ।তাদেরকে অবশ্যই সরকারীভাবে কিছু একটা করা প্রয়োজন ।তিনি নিজেও আফাজকে সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন ।
শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles