নালিতাবাড়ীতে অর্ধকোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি বেহাত

দ্বারা hello@anbnews24.com
নালিতাবাড়ীতে অর্ধকোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি বেহাত


ভূমি অফিসের দেয়াল বন্ধ ! নির্মাণ কাজে বাধাঁ কোথায় ? 

স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র তারাগঞ্জ উত্তর বাজার শহীদ মিনার মোড় সংলগ্ন অর্ধকোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পত্তি বেহাত হওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারী অফিসের।
জানা গেছে, উত্তর বাজারস্থ শহীদ মিনার মোড়ের সাথেই উপজেলার বাঘবেড়- কলসপাড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। অফিসের পশ্চিমে রয়েছে খাইরুল গং ও শফিকুল গংদের প্রায় ২ শতক করে মোট প্রায় ৪ শতক জমি। যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। মূলত: উপরোক্ত মালিকানায় মোট জমির পরিমাণ ছিল ৬ শতক। কিন্ত: সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রায় ২ শতক জমি সরকারীভাবে অধিগ্রহণ করা হয়। ফলে বাকী রয়ে যায় প্রায় ৪ শতক জমি। জমির নকশা ও খারিজ অনুসারে বর্তমানে প্রকৃত মালিকানা জমির পরিমাণ ৪ শতক। যার বিআরএস (বাংলাদেশ রিভিশনাল সার্ভে) দাগ নং- ৪৭৫। কিন্ত; উপরোক্ত ব্যক্তি গংয়ের মালিকানায় থাকা ঘরটি ভাড়া হিসেবে নেওয়া তৃপ্তি হোটেল নামে পরিচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রান্না ঘরের আওতায় রয়েছে আরও প্রায় ২ শতক জমি। ‘ক’ তফসিলভুক্ত অতিরিক্ত প্রায় ২ শতক এ জমিটুকুর বিআরএস দাগ নং- ৪৭২। একসময় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা হোটেলের পেছনের প্রায় ২শতক জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হোটেলের রান্নার কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়। যার ফলে দখলীয় জমির পরিমাণ দাড়ায় ৬ শতক। সম্প্রতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসটির জন্য পাকা ভবন নির্মাণের পর প্রায় ১১ লাখ টাকায় অফিসটির সুরক্ষা দেয়াল তথা বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কেপিএস কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্ত: বিপত্তি বাঁধে বাউন্ডারি নির্মাণ করতে গেলে। ভূমি অফিসের আওতাধীন প্রায় ২শতক জমিতে হোটেলের রান্নাঘর থাকায় বাউন্ডারি নির্মাণ সম্ভব হয় না। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একপর্যায়ে বাউন্ডারি অসম্পূর্ণ রেখেই কাজ শেষ করতে হয় ঠিকাদারকে। ফলে হোটেল সংলগ্ন প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমি যেমনি ব্যক্তি গংদের দখলে রয়ে যায়, তেমনি বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ না করায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে ভূমি অফিস।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত জনৈক ব্যক্তি জানান, ‘ক’ তফসিলভুক্ত প্রায় ২ শতক জমিতে তৃপ্তি হোটেলের রান্নাঘর থাকায় বাউন্ডারি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। মূলত; ব্যক্তি গংয়ের মালিকানায় প্রকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ৪শতক। অথচ তারা প্রায় ৬ শতক জমিতে ঘর নির্মাণ করে রেখেছে। ভূমি অফিস ও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জমির সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাউন্ডারি নির্মাণ অসম্পূর্ণ রেখে কাজটি শেষ করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জমির জটিলতা শেষ করে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা ব্যতীত বাউন্ডারির কাজ করার সুযোগ নেই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একটি সূত্র জানায়, রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা প্রায় ২ শতক জমিটি বর্তমানে উল্লেখিত ব্যক্তি গংরা নিজেদের নামে খারিজ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয়রা মনে করেন, বর্তমান বাজার মূল্যে ২ শতক জমির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকার উপরে। তাছাড়াও মূল্যবান এ জমি ভূমি অফিসের হওয়া সত্বেও তা ব্যক্তি গংয়ের দখলে থাকায় বাউন্ডারি দেয়াল করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারী গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটির নিরাপত্তায় ভূমি উদ্ধার করে বাউন্ডারি নির্মাণ জরুরী।তবে সরকারী নির্মান কাজে বাঁধা কোথায় ?

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles