শাটডাউন নয় কঠোর লকডাউন

দ্বারা hello@anbnews24.com
শাটডাউন নয় কঠোর লকডাউন

 

জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব বন্ধ

পুলিশ-বিজিবির সাথে থাকতে পারে সেনাবাহিনী

এএনবিনিউজ : সুত্র জাতীয় দৈনিক : প্রায় দেড় বছর ধরে লকডাউন, কঠোর লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন ও বিধি-নিষেধের সঙ্গে মানুষ পরিচিত। করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়ে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। শুরুতে আন্তরিকতা ও কঠোরতা থাকলেও ঘোষণার দিন গড়াতেই সরকার-জনগণ মিলে লকডাউন ঢিলেঢালায় পরিণত করেছে। তবুও আবার জারি করা হলো কার্যকর এক সপ্তাহের লকডাউন। আগামী সোমবার থেকে কার্যকর লকডাউন পরিস্থিতির বিবেচনায় আরও বাড়তে পারে। আজ শনিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গতকাল সকালেও শার্টডাউন জারির বার্তা দিয়েছিল সরকার। গতকাল সকাল গড়িয়ে রাতে এসেছে কার্যকর লকডাউনের ঘোষণা। ইতঃপূর্বে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়নে অনীহা আর অবহেলা পরিলক্ষিত হয়েছে। লকডাউন ব্যর্থ হওয়ায় শাটডাউনের সুপারিশ করেছিল কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত পৌনে ৯ লাখের বেশি ব্যক্তির নমুনায় ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ছুঁইছুঁই। প্রতিবেশী ভারতের তুলনায়ও এটি নগণ্য। কিন্তু সম্প্রতি জেঁকে বসেছে ভয়াবহ ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। করোনার নতুন এই ধরনটি ভারতকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভারতে মৃত্যু ও শনাক্তের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গেলো ৮ মে ভারতফেরত দুই ব্যক্তির নমুনায় ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। অল্পদিনেই ঘটে ভাইরাসটির গণসংক্রমণ। এখন রাজধানীসহ দেশের অন্তত অর্ধশত জেলায় শনাক্ত-মৃত্যু বৃদ্ধির বড় কারণ এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে দেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলায়। শুধু রাজধানীতে শনাক্তের ৬৮ শতাংশ ব্যক্তি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে নিয়ন্ত্রণে থাকা করোনা এখন ২১ শতাংশের বেশি শনাক্ত হচ্ছে। মৃত্যুও আবার একশ’র ওপরে ওঠেছে। গতকাল শুক্রবার ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারা দেশে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ চলছে। চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা দেয় সরকার। পরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল রোজার ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিলো। ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর আসন সংখ্যার অর্ধেক বসিয়ে খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়। তবে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারা দেশে বিধি-নিষেধ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ জুন বিধি-নিষেধ এক মাস বাড়িয়েছে সরকার, যা ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর সুরক্ষায় চারপাশের সাত জেলায় লকডাউন জারি করা হয়। কিন্তু তবুও সুফল মিলছে না। এক সপ্তাহের রোগী নমুনা পরীক্ষা, রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকির বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। এমন পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত ভয়াবহতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদিকে করোনার আগ্রাসন ঠেকাতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সরকারকে ১৪ দিনের শাটডাউনের সুপারিশ করেছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেল্টা সংক্রমণ ঠেকাতে জারিকৃত শাটডাউনে সুফলও মিলেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার মাসুল দিতে হচ্ছে এখন। শুরুতে যখন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় তখন ভারতফেরত ব্যক্তিদের আলাদা করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমন কি যশোর জেলা সদর জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী পালানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পরও রোগীরা যশোর হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিল। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গেলো ঈদে শহর থেকে ঘরমুখী হয়েছিল মানুষ। সরকারও শেষ সময়ে গণপরিবহন খুলে দিতে বাধ্য হয়। এতেই ডেল্টার দেশজুড়ে গণসংক্রমণ ঘটে। এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে থাকা করোনা আগ্রাসী হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে মার্চ-এপ্রিলের চেয়েও  ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশটি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছে। সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে শাটডাউন নয়, আবারো আগামী ২৮ জুন সোমবার থেকে কার্যকর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তবে অতীতের লকডাউনের চেয়ে এবারের লকডাউনে থাকছে ভিন্নতা। জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও জনসমাগম বন্ধে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে বিজিবি। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মাঠে নামানো হতে পারে। এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৫টি জেলা আছে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে। সংক্রমণের মধ্যম ঝুঁকিতে আছে আটটি জেলা। বিভাগীয় হিসাবে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার সবকটিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয়টি অতি উচ্চ ঝুঁকিতে, দুটি আছে উচ্চ ঝুঁকিতে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সাতটি জেলা আছে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে। রাজধানীসহ দুটি জেলা আছে উচ্চ ঝুঁকিতে আর চারটি জেলা আছে মধ্যম ঝুঁকিতে। রংপুর বিভাগের পাঁচটি অতি উচ্চ এবং তিনটি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ছয়টি জেলা অতি উচ্চ, তিনটি জেলা উচ্চ এবং একটি জেলা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ। বরিশাল বিভাগে তিনটি জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকিতে এবং মধ্যম ঝুঁকিতে তিনটি জেলা। সংক্রমণ এখনো তুলনামূলক কম সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ রোগের বিশেষ ডেল্টা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে ও দেশে ইতোমধ্যেই তার প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ ও  পঞ্চাশোর্ধ জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ করা যাচ্ছে। রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ডখণ্ডভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অন্যান্য দেশ, বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এ প্রজাতির বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত অনুযায়ী যে সব স্থানে পূর্ণ ‘শাটডাউন’ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ শাটডাউন দেয়ার সুপারিশ করেছে। সুপারিশে বলা হয়, শাটডাউন চলা অবস্থায় জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

সভায় ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এ রোগ থেকে পূর্ণ মুক্তির জন্য দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশের ঊর্ধ্বে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও কমিটি মতামত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে টিকা উৎপাদন করা ও নিজস্ব টিকা তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রতি কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানায়। গত বুধবার কমিটির ৩৮তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে আট লাখ ৭৮ হাজার ৮০৪ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হলো। তার মধ্যে গতকাল সুস্থ হওয়া দুই হাজার ৭৭৬ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে সাত লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৯ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও গতকাল ১০৮ জনের মৃত্যুতে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হাজার ৯৭৬ জনে পৌঁছেছে। গতকাল শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ও মৃত্যুহার এক দশমিক ৫৯ শতাংশ। দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি দশ লাখে পাঁচ হাজার ১৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ ব্যক্তির নমুনায় করোনা শনাক্ত হচ্ছে। তার মধ্যে সুস্থ হচ্ছে চার হাজার ৬৮৩ দশমিক শূন্য আট শতাংশ এক মৃত্যু হচ্ছে ৮২ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধ জরুরি। কর্মপরিকল্পনা একটা নেয়া দরকার। যাতে করে শুধু এই হঠাৎ করে লকডাউন বা অবরুদ্ধ না দিয়ে বরং সবগুলো নিয়ে কাজ করা। এমন একটা সংক্রমণ চক্রের মধ্যে আমরা ঢুকে পড়েছি, এখন বহু সংক্রমণ চক্র তৈরি হয়েছে, এই সবগুলো সংক্রমণ চক্র যদি একসঙ্গে হয়ে যায় তখন আমাদের জন্য আসলেই ভয়ানক পরিস্থিতি দাঁড়াবে। এই মার্চ-এপ্রিলে যে দুঃষহ স্মৃতি তার চেয়েও ভয়াবহ স্মৃতি হবে না, এটা কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা বাড়ানো, আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিতের পাশাপাশি জোর দিতে হবে রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ওপর।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। জুন মাস তো শেষ হয়ে গেছে প্রায়। শাটডাউন ঘোষণা করে বসে থাকলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিদায় হবে না। বরং সামনের দিনগুলোতে আরও বিপর্যয় আসছে।’ তিনি বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়াতে হবে। যাদের পজেটিভ আসবে তাদেরকে আইসোলেশনে নিতে হবে। আইসোলেশন সংকট হলে খোলা মাঠে, তাঁবুর নিচে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করতে হবে। আর যারা বেশি অসুস্থ তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পঞ্চাশের অধিক জেলায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ অত্যন্ত বেড়ে গেছে। আর এ সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের পাশাপাশি হাসপাতালে আক্রান্তদের ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হারও বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা যদি ভারতের সেই বিপর্যস্ত অবস্থার কথা চিন্তা করি, সেখান থেকে তারা কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লি বা মুম্বাইয়ের কথা বলি, যেখানে প্রতিদিন ২৮ হাজারের উপরে মানুষ সংক্রামিত হয়েছে। হাজার হাজার মৃত্যু ঘটেছে। এরপর তারা যখন কঠোর লকডাউনের দিকে গেল বিশেষ করে দিল্লিতে, এখন সেখানে সংক্রমণের হার কোনো কোনো দিন একশর নিচে। কোনো কোনো দিন মৃত্যুও নেই।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘করোনার অবস্থা খবুই বাজে। প্রথমে আমরা সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন দেবো। কাল (শনিবার) আমরা প্রজ্ঞাপন দেবো। সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে। কঠোর মানে কঠোরই। সব বন্ধ থাকবে, যানবাহনও। শুধু চালু থাকবে জরুরি পরিষেবা। এরপর প্রয়োজনে সময়টা বাড়াবো। করোনা থেকে উত্তরণের জন্য এসবই করতে হবে।’ তিনি বলেন, কার্যকর লকডাউন যাতে সবাই যথাযথভাবে পালন করে সে জন্য পুলিশের সঙ্গে এবার বিজিবি থাকবে। সেনাবাহিনীও থাকতে পারে। মানুষের অপ্রয়োজনীয় রাস্তায় আসবে না। তবে বাজেট সংক্রন্ত যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের ও অর্থনৈতিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে। এছাড়া সবই বন্ধ থাকবে ।

 

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles