মোড়ে মোড়ে পুলিশ- রাজপথ ফাঁকা পথে পথে চেকপোস্ট

দ্বারা hello@anbnews24.com
মোড়ে মোড়ে পুলিশ- রাজপথ ফাঁকা পথে পথে চেকপোস্ট

 

* জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীতে বের হওয়ায় আটক তিন শতাধিক * গ্রেফতার ১৬৭ জন

    এএনবি নিউজ ডেস্ক: (সুত্র: জাতীয় দৈনিক)    করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাত দিনের জন্য দেশজুড়ে ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হওয়া এই লকডাউন চলবে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত। এবারের লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ কঠোরই করার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেফতার করার কথা বলেছে পুলিশ। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে থাকছে সেনাবাহিনীও। কঠোর লকডাউনের প্রথমদিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী তিন শতাধিক আটক করা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬৭ জনকে। এছাড়া এদিন ২২২টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এতে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা। রেকারিং করা হয়েছে ৪৬টি গাড়ি, আর জব্দ করা হয়েছে ছয়টি। বেশিরভাগ মামলাই করা হয়েছে ওয়ারী, রমনা ও মতিঝিল বিভাগে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের চিত্র দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে; চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দিচ্ছে না তারা। সড়কে থামিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন-এমন সব প্রশ্নের পর যৌক্তিক জবাব দিতে পারলেই সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেয়া হচ্ছে। না হয় ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে সবাইকে। রাস্তায় গণপরিবহণ চলছে না। চলছে ব্যক্তিগত, অফিসের গাড়ি। রিকশা চালু আছে। অনেকেই গন্তব্যে যাচ্ছেন হেঁটে। গতকাল সরজমিনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ঘুরে দেখা যায়, ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ রাজধানীর রাজপথ অনেকটাই ফাঁকা। সরকারি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি, পণ্যবাহী বাহন ছাড়া কিছু রিকশা-রিকশাভ্যান চলছে বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেলেও সংখ্যায় তা একেবারেই কম। রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেক পোস্ট ছাড়াও কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ। লকডাউনের প্রথম দিন সকালে মগবাজার মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল, নয়া পল্টন, ফকিরাপুল, বিজয়নগর, মীরপুর, আজিমপুর, বাড্ডা, রামপুরা, শাহবাগ, ধানমন্ডি, হাতিরপুল ঘুরে মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট দেখা গেছে। কাকরাইলের মোড়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা একটি সাদা প্রাইভেট কার থামিয়ে বলেন, ভাই, কেন বের হয়েছেন? জানেন না লকডাউন চলছে? কেন নিজে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন, অন্যদের বিপদে ফেলছেন? পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার যুক্তসঙ্গত কারণ না দেখালে মামলা, জেল-জরিমান মুখে পড়তে হবে। কোনো ছাড় আমরা দিচ্ছি না, কড়াকড়ি করছি। আজিমপুর চৌরাস্তায় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। ‘অতি প্রয়োজন’ ছাড়া কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেলে দুজন যাত্রী দেখলে একজনকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে, কেন তারা বের হয়েছেন তাও জানতে চাওয়া হচ্ছে। লকডাউনে যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও রিকশায় বাধা নেই। সকাল থেকে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে রিকশা চালকরা বসে থাকলেও যাত্রী পাচ্ছেন না। তার মধ্যে চলছে বৃষ্টি। মালিবাগ মোড়ে রিকশা চালক হোসেন আলী বলেন, স্যার গত কয়েকটা দিন ভালো কামাই হয়েছে। কিন্তু আইজ সকাল থেকে খ্যাপ পাই নাই। কীভাবে চলমু? রিকশাচালকরা জটলা করে বসে থাকলে মাঝে মধ্যে পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে তাদের সর্তক করছেন। অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও শিল্পকারখানাগুলো ‘নিজস্ব ব্যবস্থায়’ চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সকালে পোশাক শ্রমিকদের অনেককে হেঁটে কর্মস্থলে যতে দেখা যায়। তাদেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসার মুখে পড়তে হচ্ছে। সকালে মীরপুরে কারখানায় যাওয়ার পথে পোশাক কর্মী তাছলিমা বেগম বললেন, লকডাউন হোক আর যাই থাকুক, কাজে তো যেতে হবে। রিকশা ভাড়া দিয়ে তো পোষাবে না। তাই হেঁটে যাচ্ছি। অলি-গলি ফুটপাতে কিছু দোকানপাটও খোলা দেখা গেল। তবে ক্রেতা নেই বললেই চলে। খাবারের দোকানগুলোতেও মানুষজনকে ভিড় করতে দেয়া হচ্ছে না। শান্তিনগর বাজারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিছুক্ষণ পর পর বাজার ঘুরে দেখছেন সবাই মাস্ক পরছে কিনা, কোনো দোকানে জটলা আছে কিনা। সেখানে দেখা গেল তরকারি-শাক-সবজি নিয়ে রাস্তার পাশে বসে আছেন কয়েকজন বিক্রেতা। তাদের একজন কলিমউদ্দিন বললেন, কাস্টমার কম। লকডাউনের কারণে আমরা বাজারের ভেতরে না গিয়ে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বসে বিক্রি করছি। পথে পথে চেকপোস্ট, অকারণে বের হলেই ব্যবস্থা: করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়কে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ পথে চলাচলকারীদের এসব চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীদের চেকপোস্ট পার হতে দেখাতে হচ্ছে উপযুক্ত প্রমাণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা যায় যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, মাতুয়াইল মেডিক্যাল, সাইনবোর্ড, চিটাগাংরোডে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে সাইবোর্ড চেকপোস্টে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে সেনাবাহিনীকেও টহল দিতে দেখা যায়। এ সড়কে গার্মেন্টস কর্মীদের রিকশা ও ভ্যানে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। গার্মেন্টসকর্মী ছাড়া খুব অল্প সংখ্যক মানুষকে সড়কে দেখা যায়। অধিকাংশ ভ্যানে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত হতে দেখা যায়নি। তবে প্রায় সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল। এসব মানুষকে চেকপোস্টগুলোতে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে। চেকপোস্টগুলোতে আইডিকার্ড, বিদেশগামীদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ পেশ করতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গার্মেন্টসকর্মীসহ অন্য মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রাস্তার পাশের দোকানপাটগুলো বন্ধ। প্রায় সব চায়ের দোকানও বন্ধ থাকতে দেখা যায়। শনিরআখড়া প্রধান সড়কের পাশে একটি চায়ের দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে এবং সেখানে বেশ কিছু মানুষকে মাস্ক না পরে, শারীরিক দূরত্ব না মেনে আড্ডা দিতে দেখা যায়। মাতুয়াইলে কিছু উৎসুক মানুষকে রাস্তার পাশে অপ্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, পাশের বাড়িঘর থেকে এরা এখানে এসে দাঁড়াচ্ছে। কোনো কারণ নেই, এরা সম্ভবত লকডাউন দেখতে এসেছে। কয়েকবার সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দাঁড়ালেই সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিধিনিষেধের আওতামুক্ত প্রচুর পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেখা গেছে এই সড়কে। সাইনবোর্ডে চেকপোস্ট পরিদর্শনকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মীদের আইডিকার্ড দেখে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। চেকপোস্টগুলোতে বের হওয়া মানুষের জরুরি প্রয়োজনের সত্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যে বিষয়গুলো প্রজ্ঞাপনে আছে তার কিছু কিছু ব্যত্যয় আমরা দেখি। অনেকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে ভুল করলে সেই ভুলটাকেই জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেন। তবে আগের চেয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে বলে মনে করেন শাহ ইফতেখার আহমেদ।

বিধিনিষেধে ফাঁকা সচিবালয়: করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের প্রথমদিনে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় ছিল প্রায় ফাঁকা। জরুরি কাজে যুক্ত কিছু মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের দফতর ছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অফিস ছিল বন্ধ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায় অন্য সময়ে যেভাবে উপস্থিতি থাকত, তা নেই। সচিবালয়ের প্রাঙ্গণ ও দফতরগুলো ছিল কর্মকর্তা কর্মচারীশূন্য। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রবেশের কলাপসিবল গেট পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দফতর খোলা। জরুরি কাজে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তাকর্মচারী অফিস করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দফতরও খোলা ছিল। তবে কর্মকর্তাকর্মচারী ছিল দু-একজন। এই মন্ত্রণালয়ের অন্য দফতর বন্ধ দেখা যায়। কিছু কিছু কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত মূল কাজের সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিতি অন্য জরুরি দফতরের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। মন্ত্রীর দফতর খোলা ছিল। সেখানে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীকে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অফিসে আসেননি। উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানালেন, কাল শুক্রবার রাতে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তমাধ্যমে মডার্নার টিকা আসবে। এদিন প্রায় ১২ লাখের মতো করোনার টিকা আসার কথা। পরদিন বাকি টিকা মিলিয়ে দুদিনে ২৫ লাখ টিকা আসবে।

রাজধানীজুড়ে আটক তিন শতাধিক, গ্রেফতার ১৬৭: করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ‘কঠোর লকডাউনে’ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীজুড়ে তিন শতাধিক আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের মধ্যে ১৬৭ জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকার সব থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। ডিএমপি সূত্র জানায়, ডিএমপির আট বিভাগে পরিচালিত অভিযানে সর্বমোট ২৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ৭৩ জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ৫৬ জনকে সর্বমোট ৬ হাজার ২০৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, একই সময় ১০ দোকানকে ৩৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীজুড়ে ২২২টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়, আর জরিমানা করা হয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া ৪৬টি যানবাহন রেকারিং করা হয় আর জব্দ করা হয় ৬টি গাড়ি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হোটেল-রেস্তোরাঁ: চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হয়েছে হোটেল রেস্তোরাঁ। কিন্তু সেবাগ্রহীতা না থাকায় বেকার সময় পার করছেন হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মীরা। অন্যদিকে রেস্তোরাঁ খোলা রাখায় হোটেল ভাড়া, ইউটিলিটি চার্জ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সবই দিতে হচ্ছে মালিকদের। গ্রাহক না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পুরান ঢাকার বাবুবাজার, নয়াবাজার, বংশাল, গুলিস্তান, পল্টন, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ ঘরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বেশিরভাগ হোটেল বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেসব হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো খোলা হয়েছে সেগুলোতেও বেচা বিক্রি নেই। কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। হোটেলের ভেতরে কাউকে বসতে দেয়া হচ্ছে না। খাবারের টেবিলে চেয়ার উল্টিয়ে রাখা হয়েছে। শুধু পার্সেল দেয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁয় হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নেই। এমনকি কর্মীরা পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন। গ্রাহকরা কোনো সময় বিষয়টি নজরে আনলে তারা থুঁতনি থেকে সেটি মুখে টেনে তুলছেন। পরক্ষণে আবার একই অবস্থা। জনসন রোডের আদি ইসলামিয়া রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ফারুক আহমেদ বলেন, রেস্তোরাঁ পরিচালনা করার জন্য সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেগুলো মেনেই রেস্তোরাঁ খোলা রেখেছি। লকডাউনে প্রথমদিন থেকে আমরা ভেতরে বসার ব্যবস্থা রাখছি না। এজন্য টেবিলে চেয়ার উল্টিয়ে রাখা হয়েছে। শুধু পার্সেল দেয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। কবে মহামারী দূর হবে সেদিনের আশায় রয়েছি আমরা। প্রেসক্লাবের সামনে তোপখানে রোডের ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁর ম্যানেজার তেলু ভূঁইয়া জানান, হোটেল খোলা রেখে কী করব যদি কাস্টমার না আসে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও যেখানে বিক্রি হতো প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রির যে অবস্থা তা দিয়ে পণ্যের দামও উঠবে না। তারপর ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ইউটিলিটি বিল কীভাবে দেব? তার থেকে সরকার যদি হোটেল বন্ধ রাখতে তা হলেই ভালো হতো। আমাদের এখন বেঁচে থাকাই বড় দায়।

লকডাউনে যেভাবে চলছে পোশাক কারখানা: করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে’ খোলা রয়েছে পোশাক কারখানা। লকডাউনে রিকশা ছাড়া সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ। অধিকাংশ কর্মীই সকালে কারখানায় গেছেন হেঁটে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে সাত দিনের এই ‘সর্বাত্মক লডকাউন’ শুরু হয়েছে। বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানী ঢাকার রাজপথ অনেকটা ফাঁকা থাকলেও অনেক এলাকায় শত শত পোশাক কর্মীকে হেঁটে কারখানায় যেতে দেখা যায়। নগরীর রামপুরা, চৌধুরীপাড়া ও মালিবাগ এলাকার ইজি ফ্যাশন লিমিটেড, নিউ ফয়সাল গার্মেন্টস, রাবেয়া গার্মেন্টস, আরএইচআর অ্যাপারেলন্স, হার্টি অ্যাপারেলন্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা জানালেন লকডাউনের সময় তাদের জন্য আলাদা কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অধিকাংশ কর্মীই থাকেন কারখানা থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে। তাদের অনেকে এমনিতেই হেঁটে যাতায়াত করেন। তাই আলাদা করে যানবাহনের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন পড়েনি। রামপুরার একটি কারখানার কর্মী শাহেদা আক্তার বললেন, আমার বাসা নয়াটোলা, বেশি দূরে না, হেঁটে হেঁটেই এসেছি। আরেকটি কারখানারকর্মী হোসনে আরা জানালেন, তার বাসা বাড্ডা পোস্ট অফিস গলি থেকে আধা কিলোমিটার ভেতরে। সেখান থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া কারখানায় হেঁটেই পৌঁছেছেন। আমি সাধারণত বাসে করে কারখানায় যাওয়া-আসা করতাম, আজকে তো গাড়ি নেই, বাধ্য হয়ে হেঁটে আসতে হয়েছে।

 

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles