স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতালিপ্সু উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে সেনাবাহিনীকে খন্ডবিখন্ড করে-ইনু

দ্বারা hello@anbnews24.com
স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতালিপ্সু উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে সেনাবাহিনীকে খন্ডবিখন্ড করে-ইনু
      ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান দিবসে জাসদের আলোচনা সভা
এএনবি নিউজ ডেস্ক : স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতালিপ্সু উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে সেনাবাহিনীকে খন্ডবিখন্ড করে ফেলেছিল। ক্ষমতালিপ্সু এই উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররা সেনাবাহিনীর শৃংখলা ও চাকরিবিধি লংঘন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাসাবাড়ি ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে উঠাবসা করতো। সাধারণ সিপাহীরা নয়, এই ক্ষমতালিপ্সু উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররাই সেনাবাহিনীর ভিতরে রাজনীতিকরণ ও রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত করেন। এই উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসারদের একটি গ্রুপ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেl  জাসদ সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ৭ নভেম্বর ২০২১, রবিবার, সকাল ১১ টায়,  বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথাবলেন
তিনি আরও বলেন, সামরিক অফিসারদের এই ক্যূ-ক্ষমতা দখল-পাল্টা দখলের খেলায় ৩ নভেম্বর আরেক উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসার খালেদ মোশাররফ ক্যূ করে ক্ষমতা দখল করে। খালেদ মোশাররফ তার নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সামরিক শাসন জারি করে এবং পাকিস্তানপন্থী বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি বানায়। শুধু তাই না খালেদ মোশাররফ খুনী মোস্তাককে গ্রেফতার না করে বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার খুনীদের সমঝোতার মাধ্যমে নিরাপদে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ করে দেয়। ক্ষমতালিপ্সু সামরিক অফিসারদের এই বিশৃঙ্খলায় সৃষ্ট চরম রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা থেকে দেশকে বাঁচাতে, ক্যান্টনমেন্টগুলোতে খুনাখুনী-রক্তারক্তি বন্ধ করতে, সংবিধান লংঘন-অবৈধ ক্ষমতা দখল-হত্যা-ক্যূ-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করে দেশে সাংবিধানিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ঔপনিবেশিক আমলের গণবিরোধী ব্যবস্থার পরিবর্তন করার লক্ষ্যে উচ্ছৃংখল অফিসারদের বিরুদ্ধে সিপাহীদের সুশৃংখল বিদ্রোহে কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের নেতৃত্বে জাসদ সমর্থন দিয়েছিল। উচ্চাভিলাসী সামরিক অফিসাররা সংবিধান লংঘন করে চলছিল। এর বিপরীতে ৭ নভেম্বর সিপাহীরা সংবিধান সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কিন্তু জিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করে জাসদ, কর্নেল তাহের ও সিপাহীদের এই প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে দেয়।
 
জিয়া নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পাকিস্তানপন্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানের ট্রেনে উঠে যায় এবং দেশকে পাকিস্তানপন্থার দিকে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতা অভ্যুত্থানের মহানায়ক কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম, খলনায়ক জিয়া।
 
তিনি বলেন, যারা জিয়া বা খালেদের পক্ষে সাফাই গাইছেন তারা কার্যত সংবিধান লংঘন, অবৈধ ক্ষমতা দখল ও সামরিকতন্ত্রের পক্ষেই সাফাই গাইছেন। জনাব হাসানুল হক ইনু সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান লংঘন-অবৈধ ক্ষমতা দখল-হত্যা-ক্যূ-ষড়যন্ত্র-সামরিকতন্ত্রের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া এবং ঔপনিবেশিক আমলের গণবিরোধী আইন-কানুন-বিধি-ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে জাসদের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। 
 
দলীয় সভাপতি জনাব হাসানুল হক ইনু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, সহ-সভাপতি নুরুল আকতার, ফজলুর রহমান বাবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহীদুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, শওকত রায়হান, রোকনুজ্জামান রোকন, নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মোঃ আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরুন্নবী, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় কৃষক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফসি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হা-ন) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবীব শামীম প্রমূখ।
 
আলোচনা সভার পূর্বে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানয়াক জাতীয় বীর, মহান বিপ্লবী শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম এর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles