নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরিকল্পিত স্থাপনা: শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

দ্বারা hello@anbnews24.com

শওকত জাহান নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: খেলার মাঠে নতুন প্রশাসনিক ভবন স্থাপনার কাজ শুরুর প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও ৭ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন আটকে বিক্ষোভ করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরাএ সময় খেলার মাঠে ভবন নির্মাণের স্থানে রাখা ভবন নির্মাণের সীমানার পিলার উপরে ফেলে জড়ো করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক জুবায়ের হোসেন বলেন, আমরা কেবল পরিকল্পনা দপ্তরের দেয়া কাজ বাস্তবায়ন করি। যেহেতু শিক্ষার্থীরা কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছে আমরা কতৃপক্ষকে জানাবো তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান ভবন নির্মাণের বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ স্থগিত থাকবে বলে জানান। আগামীকাল বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

আন্দোলন এবং নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের বিষয়ে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের একটি চিঠি পেয়েছি। তাদের দাবী গুলো গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি আমরা। আলোচনা করে দ্রুতই সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

আন্দোলনে অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিকড় বলেন, যে জায়গায় নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তা পুরো অপরিকল্পিত। সাত হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর জন্যে একটি বড় খেলার মাঠ এবং এই একটি ছোট মাঠই কেবল রয়েছে। যেটিকে বছরের অধিকাংশ সময় পরিকল্পিত ভাবে অকেজো করে রাখা হয়। পাশেই থাকা গাহি সাম্যের গান মঞ্চকে ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনাও এরই অংশ। সাংস্কৃতিক আবহের বিশ্ববিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের এই অবস্থান থাকবে।

আরেক শিক্ষার্থী ফাহমিদ অর্ক বলেন, আমরা নতুন প্রশাসনিক ভবন চাই তবে খেলার মাঠ ধ্বংস করে নয়। এই একটি জায়গা কেবল বাকী ছিলো সেটিতেও তাদের নজর পড়ে গেছে। আমরা এই মাঠকে আগলে রাখবো কোন বস্তিতে পরিণত করতে দিবো না। আমরা স্মারকলিপি প্রদান করার পরও যদি ভবন নির্মাণে আগায় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে।

আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের ৭ দফার মধ্যে রয়েছে, ১। নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ স্থগিত করতে হবে। নতুন অধিগ্রহণকৃত জমিতে অথবা নতুন জমি অধিগ্রহণ করে ভবন নির্মাণ করতে হবে। ২। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরাতন দুই মাঠ সংস্কার করতে হবে সেই সাথে নতুন একটি খেলার মাঠ তৈরী করতে হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। ৩। নতুন দুই হলের জন্যে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪। অতিসত্বর ৫০০ একরের ক্যাম্পাসে পরিণত করতে হবে। ৫। অপরিকল্পিত আর কোন ভবন নির্মাণ করা যাবে না এবং নতুন মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। ৬। নতুন ভবন নির্মাণের জন্যে কোন গাছ কাটা যাবে না এবং সোন্দর্য বর্ধনের জন্য বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ৭ ডিপিডি দপ্তরে পরিবর্তন আনতে হবে।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles