সন্ত্রাসের নয়া কৌশল:রোহিঙ্গা

দ্বারা hello@anbnews24.com
সন্ত্রাসের নয়া কৌশল:রোহিঙ্গা

 

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহূত চার শিশুশিক্ষার্থীকে জীবন্তউদ্ধার

অস্ত্রধারীরা পাহাড় থেকে নেমে আসছে লোকালয়ে, জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ 

আটক হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মাদক আইস, পালিয়ে যাচ্ছে কারবারিরা 

বিশেষ প্রতিবেদন (এএনবি নিউজ) সুত্র জাতীয় গনমাধ্যম: বিশাল অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর আতঙ্কে স্থানীয়রা, মুক্তিপণের ঘটনায় আতঙ্ক আইস, ইয়াবা, গাঁজাসহ নতুন নতুন অস্ত্রের নাম স্থানীয় শিশুদের মুখে মুখে  

সন্ত্রাসের নয়াকৌশলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।তুলে নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অস্ত্রধারীরা পাহাড় থেকে নেমে আসছে লোকালয়ে। দাবি করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভয় আর আতঙ্ক স্থানীয়দের মাঝে। নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে মানচিত্র। চাপ তৈরি হয়েছে প্রশাসনে। সামান্য ঘটনা থেকে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পূর্ব-শত্রুতার জের, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারের জন্য অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। 

সমপ্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিশু শিক্ষার্থীকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের কথা বলে অপহরণ করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী চক্রকে অভিযুক্ত করেছে শিশুদের স্বজনরা। দীর্ঘ পাঁচ দিনে অক্লান্ত পরিশ্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিশুদের জীবন্ত উদ্ধার করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন,  রাতের সন্ত্রাসীরা লোকালয়ে চলে আসায় ক্যাম্পগুলো নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি বিশৃঙ্খল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, আইস, ইয়াবা, গাঁজা নতুন নতুন অস্ত্রের নাম শিশুদের মুখেও শোনা যায়। 

এমন কিছু মাদক স্থানীয়রা কখনো শুনেনি সেগুলো এখন রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠছে। অস্ত্র-মাদকের রাজ্য হয়ে উঠেছে ক্যাম্পগুলো। নিয়মিতই অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আটক হচ্ছে। এতদিন তারা সরাসরি নিজেদের মধ্যে খুনখারাবিতে জড়ালেও এবার স্থানীয়দের আটক করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা উখিয়ারবাসীকে ভাবিয়ে তুলছে।

উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সমপ্রতি প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয় ক্যাম্পে। সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ও আটককৃত সবাই বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা। এছাড়া ক্যাম্প এলাকায় গড়ে উঠছে অস্ত্র তৈরি ও মেরামতের কারখানা আমরা যেমন বিষয়টি জানি এগুলো গণমাধ্যমেও খবর এসেছে।  যা বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযানেও ঠেকানো যাচ্ছে না অরাজকতা। রোহিঙ্গাদের এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছি আমরা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা। আমরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। স্বাধীন দেশে নিরাপত্তার বসবাস চাই। 

স্থানীয় এক মেম্বার বলেন, ‘আমরা এত বছর এখানে বসবাস করি, কিন্তু কখনো আইস নামক মাদকের নাম শুনিনি। বিভিন্ন অস্ত্রের নাম শুনিনি। এখন মাদক ও অস্ত্রের নাম এই এলাকার শিশুদের মুখেমুখেও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে, তবে এই বিশাল অস্ত্রের গোষ্ঠীর সাথে সর্ব অবস্থায় টিকে থাকা ঝুঁকি বেড়েছে। 

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহূত চার শিশুশিক্ষার্থী জীবন্ত উদ্ধার :  সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে নিয়ে এবার কৌশলে অপহরণ ও মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। অপহরণের শিকার রামুর খুনিয়াপালংয়ের চার স্কুলছাত্র। তাদের জীবিত ফিরে পেতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রামু থেকে অপহূত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে শুক্রবার রাতে তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পর গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মিজানুর রহমান নামে অপর শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

গত ৭ ডিসেম্বর উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ কায়সার ও মিজানুর রহমান নয়ন অপহূত হয়। তাদের সবার বাড়ি রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ এলাকায়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন। 

এর আগে টেকনা?ফের শালবন এলাকা থেকে শুক্রবার রা?তে দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করার কথা জানান কক্সবাজার-১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. তারিকুল ইসলাম। তারা হলো— জাহিদুল ইসলাম মামুন ও মিজানুর রহমান নয়ন। তার আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ কায়সার নামে এক নিখোঁজ ছাত্রকে উদ্ধার করে র‌্যাব। অপহূত অপর জনের সন্ধানে রাতভর পাহাড়ে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে তাকেও উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহেল জানান, পুলিশ ও র্যাবের হাতে আটক রোহিঙ্গা সাদ্দাম মিয়া ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশেই তারা অপহরণ করেছিল।

গতকাল শনিবার  দুপুরে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। উদ্ধার হওয়া ওই স্কুলছাত্রের নাম মিজানুর রহমান (১৪)। সে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপের মংলা পাড়ার মো. আলমের ছেলে। 

উল্লেখ্য, রামুর পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা ও সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর সাথে স্থানীয় বাতিঘর নামের একটি আবাসিক কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহিমের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে গত ৭ ডিসেম্বর সকালে রামুর পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে রো?হিঙ্গা জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিম স্কুলশিক্ষার্থীদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কথা বলে টেকনাফের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর থেকে স্কুলছাত্রদের খোঁজ মিলছিল না। 

এরই মধ্যে বুধবার রাতে নিখোঁজ থাকা স্কুলছাত্রদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে স্কুলছাত্রদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। কোটি কোটি টাকার ইয়াবাসহ কক্সবাজারে

রোহিঙ্গা কারবারি আটকসমপ্রতি প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ হাজার ৬৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের চেষ্টার দায়ে দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

একই সাথে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। গত ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ মাহমুদুল হাসান এ রায় দেন। দোস্ত মোহাম্মদ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য দুই কোটি ৯৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ বিষয়ে ২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের নায়েক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। 

১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার আইস, ইয়াবা  গাঁজা জব্ধসমপ্রতি টেকনাফ থেকে এক কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইসের চালান চট্টগ্রামের পথে ভেস্তে দিয়েছে র্যাব। এ ছাড়া উখিয়ায় একটি বাড়িতে মাটির নিচে মিলেছে তিন কোটি টাকার ইয়াবা। রাঙামাটিতে বিক্রির জন্য শুকানো হচ্ছিল সোয়া আট কোটি টাকার গাঁজা। খবর পেয়ে ইয়াবা উদ্ধার ও গাঁজাক্ষেত ধ্বংস করে র্যাব-৭। ১৪ নভেম্বর পৃথক তিনটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ পিস ইয়াবা, এক কোটি টাকা মূল্যের ৯৯৫ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) জব্দ করা হয়। 

এছাড়া একই সময়ে আট কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ হাজার ৫০০ কেজি গাঁজাক্ষেত ধ্বংস করা হয়। র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার জানান, কক্সবাজার জেলার উখিয়া বালুখালী ও টেকনাফ থানার সাবরাং ও রাঙামাটি জেলার যেবাছড়িতে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও গাঁজা জব্দ করা হয়। টেকনাফ থেকে আইস (ক্রিস্টাল মেথ) চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি দামে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে এবং চাষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছিল। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফে পাঁচ কোটি টাকার আইস ফেলে পালালো কারবারি : টেকনাফের হ্নীলা সুলিশপাড়া পয়েন্টে বিজিবি জওয়ানদের ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া এক কেজি আইস উদ্ধার করা হয়েছে। যার মুল্য পাঁচ কোটি টাকা। 

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানান, ২৯ নভেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির নিয়মিত টহল দল টহল দেয়ার সময় দুই দুষ্কৃতকারী একটি পলিথিনের ব্যাগ হাতে নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে আসতে দেখে। তখন বিজিবি জওয়ানরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে সামনে অগ্রসর হতে থাকে। দুষ্কৃৃতকারীরা নিরুপায় হয়ে হাতে থাকা পলিথিন ব্যাগটি ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে চলে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ব্যাগটি উদ্ধার করে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের এক কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পাওয়া যায়। 

অস্ত্রসহ ৯ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক : কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৯ রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর ভোরে রোহিঙ্গা শিবিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একটি দল এ অভিযান চালায়। 

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান জানান, বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-০৯ এর সি/১১ ব্লকে অজ্ঞাতন ৩০-৩৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ডাকাতি করার জন্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। এ সময় সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা দৌড়ে পালানোর সময় ৯ রোহিঙ্গা ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি গভর্ন্যান্সের ফেলো অধ্যাপক মো. শহীদুল হক বলেছেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসাকে ব্যবহার করছে বলে অনেকের ধারণা। রোহিঙ্গারা যদি এখনই ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে আরসার আধিপত্য বিস্তৃত হবে। এতে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস দুর্বল হয়ে পড়বে। 

শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রায় এক বছরের এই সময়কালে দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গা শিবিরে যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা পাহাড় থেকে নেমে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।

এ নিয়ে সমপ্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কক্সবাজারে মানবিক কার্যক্রম লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এই সংকট ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়েছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জরুরি খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধা পেয়েছে। এই মানবিক সংকট থেকে উত্তরণে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শরণার্থীদের জন্য কোভিড-১৯ টিকার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ পুনরায় প্রশংসনীয় উদারতা দেখিয়েছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি স্থানীয় জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের নিরপত্তার বিষয়টিও ভাবনার বিষয় হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এসব ঘটনা ঘটার পর মিয়ানমারের ওপর নজর দিতে হবে, কারণ মিয়ানমার রিপাকিয়েসন কাজ শুরু না হওয়ার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। একটা দেশ যখন উন্নয়নের দিকে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক শত্রু সৃষ্টি হবে। তাই দেশের সব ক্ষেত্রকে আরও বেশি শক্ত করতে হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবীর আমার সংবাদকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বারবার এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে ঘটনা ঘটতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য, এ দেশের জন্য, এখন ভয়ঙ্কর বোঝা, ভূখণ্ডের জন্য বোঝা, নিরাপত্তার জন্য বোঝা, তাই নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। আসলে এমন ঘটনা কেন ঘটছে এর পেছনে মৌলিক উদ্দেশ্য কী সেটি তদন্তের আলোকে উন্মোচন করতে হবে।’

 

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles