ঝিনাইগাতীতে দলীয় প্রার্থীদের গলার কাঁটা বিদ্রোহীরা

দ্বারা hello@anbnews24.com
ঝিনাইগাতীতে দলীয় প্রার্থীদের গলার কাঁটা বিদ্রোহীরা
কাকন সরকার জেলা প্রতিনিধিঃ শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৬টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে।
 মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলায় ১১জন বিদ্রোহী প্রার্থী ওই ৬ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
 
আগামী ৫ জানুয়ারী ৫ম ধাপে সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীক পেয়েছেন মোঃ সাহাদৎ হোসেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ জয়নাল আবদীন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন চাঁন। এখানে মোফাজ্জল হোসেন চাঁনের সাথে নৌকার তুমুল লড়াই হবে বলে ভোটাররা বলাবলি করছেন।
 
গৌরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান মন্টু। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আশরাফুল আলম পলাশ। বিদ্রোহী প্রার্থীর চশমা প্রতিকের পক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ ও সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুছ ছালাম কতিপয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকে সাথে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
 
ধানশাইল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন  মোঃ তৌফিকুর রহমান এনামুল। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। অপর বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজ। চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এবার যাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তিনি ছাত্রদলের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং ওই দল থেকে পদত্যাগ করেননি।এমনকি এখনো আওয়ামী লীগে যোগদানও করেননি। অজ্ঞাত কারণে তিনি নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী মোঃ তৌফিকুর রহমান এনামুল জানান, মাননীয় সভানেত্রী সবকিছু যাচাই বাছাই করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
 
কাংশা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ জহুরুল হক। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, বাকাকুড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মিস্টার, কাংশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার উল্লাহ, কৃষক লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রউফ।
 
নলকুড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মোঃ আক্তারুজ্জামান জামি। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান ও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ রেজাউল করিম।
 
হাতীবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ ওবাইদুল ইসলাম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আছলাম ও জেলা তাতী লীগ নেতা মোঃ ইমরান সরকার। বিদ্রোহী প্রার্থী ইমরান সরকার অভিযোগ করে বলেন, যাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তিনি সদ্য বিলুপ্ত ২নং হাতীবান্ধা ওয়ার্ড বিএনপির ২১ নম্বর সদস্য। তিনি এখনও পর্যন্ত বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি বা আওয়ামী লীগে যোগদানও করেননি। রহস্যজনক কারনে তিনি নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। নৌকার প্রার্থী আলহাজ ওবাইদুল ইসলাম জানান,আমি কখনও বিএনপি করিনি।
 
এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এসএস আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম সাংবাদিকদের জানান, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং তাদের পক্ষে যারা কাজ করছেন তাদের সম্পর্কে অবগত আছি। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
 
 
 
 
 
 
 
 
শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles