পীরগঞ্জের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী ডাক্তার হতে চায়-প্রয়োজন সহযোগিতা

দ্বারা hello@anbnews24.com
পীরগঞ্জের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী ডাক্তার হতে চায়-প্রয়োজন সহযোগিতা

বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ(রংপুর) : দারিদ্রতাকে জয় করে সমাজে ভাল ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন পুরনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পীরগঞ্জের পিতৃহীন মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী আক্তার । সে এবারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন সদ্য প্রকাশিত এসএসসি’র ফলাফলে গোল্ডেন এ প্লাস (নম্বর-১০৫৪) পেয়েছে । ওর রোল নং-১৮২৪৭৩, নিবন্ধন-১৮১৭৬১৮৬৬৫, সেশন-২০১৯-২০২০ । সাথীর প্রত্যাশা ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখছে । ডাক্তার হয়ে  মায়ের সংসারের স্বচ্ছলতা এনে দূ:খি মায়ের মুখে হাসি ফুটানো তার প্রত্যাশা কিন্ত: এ ক্ষেত্রে ওর জন্য বড় বাধা আর্থিক প্রতিবন্ধকতা ।সে জানেনা ওর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পুরন হবে কিনা ?

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মজনু মিয়া ও মাজেদা বেগমের কনিষ্ট মেয়ে সাথী আক্তার । ওর বয়স যখন ৪ বছর তখন বাবা মারা যান । ওর পরিবারের ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট । পিতার স্নেহ থেকে  ১২ বছর ধরে বঞ্চিত সাথী আক্তার , সে  বড় হয়েছে মা এবং ভাই বোনদের স্নেহও মমতায়  । তাদের নেই  আবাদী জমি,  রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশের বসত ভিটা । একটা টিনের ও একটা বাঁশের বেড়া ঘরেই ওদের বসবাস ।

বড় বোনটির বিয়ে হয়েছে । এক বড় ভাই ঢাকায় গার্মেন্টেস এ চাকুরি করে সামান্য যে বেতন পায় তা দিয়েই চলে ওদের কোন রকমে সংসার । অপর বড় ভাই মাইদুল এবারে পীরগঞ্জ কারিগরি কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষা দিয়েছে । সে পড়ার খরচ চালাইতে মাঝে মধ্যে তাকে অন্যের মজুরীর কাজ করতে হয় । সাথী লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে টিউশনি করে । সে যে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছিল, সেই জাহাঙ্গীরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ওর কাছ থেকে কোন বেতন নেয়নি এবং বিনামুল্যে প্রাইভেট পড়িয়েছে ।
বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে সাথীকে এখন ভর্তি হতে হবে কলেজে । ওর স্বপ্ন রংপুর শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কারমাইকেল কলেজ কিংবা অন্য কোন ভাল মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের । কিন্তু ওর সে প্রত্যাশা পুরন হবে কি না, সে এ ব্যাপারে সন্দিহান । তার একটাই প্রশ্ন এ সব কলেজে ভর্তি কিংবা লেখা পড়ার খরচ আসবে কোত্থেকে ? ওর যে সে সামথ্য নেই । একই দুঃশ্চিন্তা সাথীর বড় ভাই মাইদুলেরও ।

মাইদুল কান্না জড়িত কন্ঠে তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, হয়তো বোনটির জন্য আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টস এ যেতে হবে ’। তা না হলে বোনটির স্বপ্ন নিভে যাবে  । মাইদুলের এ মন্তব্য সাথীর জন্য বিরাট  কষ্টের ।

সাথীআক্তার  কান্না জড়িত কন্ঠে তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, আমার জন্য ভাইয়ের লেখা পড়া বন্ধ হোক এটা চাইনা । আমার শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় বাঁধা অর্থনৈতিক দৈন্যতা । কেউ আমার প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়ালে আমার সামনে এগুনো সম্ভব । অন্যথায় এখানেই থেমে যেতে হবে । আমার ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশা পুরণ হবে না ।

তাই মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী সহ ওর পরিবারের সদস্যরা  সম্ভাব্য মানবদরদী সমাজে প্রতিষ্ঠিত  ব্যক্তিদের  সহযোগীতা কামনা করছেন । কারও সহযোগীতায় সাথী আক্তারের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে ।  যোগাযোগ করার জন্য  মোবাইল নং-০১৭৪৪-২১২৪৩৩ ।

শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles