পীরগঞ্জে ভ্যান চালক হত্যার মামলার অভিযুক্ত শামীম গ্রেফতার

দ্বারা hello@anbnews24.com
পীরগঞ্জে ভ্যান চালক হত্যার মামলার অভিযুক্ত শামীম গ্রেফতার
 মোঃ রাশেদুল ইসলাম মিঠাপুকুর: রংপুরের পীরগঞ্জের ভ্যান চালক মোঃ মোকছেদ মিয়া (৫০)  এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । মোকছেদ মিয়া দারিয়াপুর (গনিয়ার বাজারের)মৃত খেজের উদ্দিনের পুত্র ।  
 
ঘটনা সুত্রে জানা যায় , মোকছেদ মিয়া পেশায় কৃষক  মাঝে মাঝে তিনি তার ছেলের ব্যবহৃত ভ্যান চালাতেন। গত ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে  চালিত ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর আর বাসায় ফিরে আসেননি। বাসায় ফিরে না আসলে, পরিবারের লোকজন সারারাত খোঁজাখুঁজি করেন ।পরের দিন সকালে তার  গলাকাটা লাশ পীরগঞ্জ থানার  আলমপুর ইউনিয়নের  কৈগাড়ি গ্রামের বাগরাশাহ দিঘীর পাড় হতে উদ্ধার করা হয়। পরে ২৫ ডিসেম্বর পলাশবাড়ি থানা এলাকা থেকে মোকছেদ মিয়ার  ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
 
পুলিশ হত্যাকান্ডের অনুষন্ধানে নেমে বিভিন্ন তথ্য সুত্র অবলম্বনে ২ জানুয়ারী আটক করেন  গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়  শাজাহান (৪০) ও  পীরগঞ্জ থানার  নকারপাড়া এলাকা তার বোন  সাবানা খাতুন (৩৫)কে। শাবানা এবং শাজাহানদের জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে  চাঞ্চল্যকর অজানা  তথ্য। সেই তথ্যসূত্র ধরে ৫ জানূয়ারী মামলার তদন্তকারী  পুলিশ অফিসার নজরুলইসলাম র‍্যাব-০৪ সহযোগিতায় মিরপুর, ঢাকা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মুল ঘাতক মোঃ শামীম মিয়া (৩৭)কে গ্রেফতার করেন।  গ্রেফতারকৃত শাশীম  স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন । 
 
যে ভাবে মোকছেদ মিয়াকে হত্যা করে শাশীম – স্বীকারউক্তি জবান বন্দিতে বলেন,  ঘটনার দিন সে মাগরিবের নামাজের পরে মোকছেদের ভ্যান স্থানীয় সোডাপীর বাজার থেকে ভাড়া করে। এরপর তারা পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যায় এবং সেখানে গিয়ে শামীম একটি ছুরি কিনে। এরপর শামীম কৌশলে মোকছেদকে খালাশপীর যাওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। এরপর সে পিছন থেকে ভিকটিমের গলায় ছুরি মারে। তখন ভিকটিম ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে দৌড় মারে। এরপর শামীম ভিকটিমকে ধরে ফেলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে শামীমের হাতের আংগুল কেটে যায়। এরপর সে মোকছেদকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে  ছুরি দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এরপর ভিকটিমের ভ্যান নিয়ে সাদুল্ল্যাপুরে তার শ্বশুড় বাড়িতে যান। পথিমধ্যে ধাপেরহাটে সে তার কাটা আংগুলের চিকিৎসা করে। এরপর সে উক্ত ভ্যানটি নিয়ে পলাশবাড়িতে যায় এবং সেখানে গিয়ে ভ্যানের ব্যাটারি খুলে বিক্রি করে এবং ভ্যানটি ফেলে রেখে ঢাকাতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
শেয়ার করুন
0 মন্তব্য

মতামত দিন

Related Articles